আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

0
574
ফাইল ছবি

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বজুড়ে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নারীর ক্ষমতায়নের স্বীকৃতি হিসেবে দিনটি উদযাপিত হয়। বাংলাদেশেও দিবসটি উদযাপনে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার ডক্টর শিরিন শারমীন চৌধুরী ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ আলাদাভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন।

এই দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ে সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ সালে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাজপথে নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলে সরকারি দমন পীড়ন।

১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেতকিনের নেতৃত্বে প্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিক। তিনি জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন।

এরপর ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বছর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয়, ১৯১১ সাল থেকে নারীদের সমঅধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে।

দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হওয়া শুরু হয়। ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়া হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে সারা পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সরকারি ছুটি ভোগ করেন রাশিয়া, কিউবা, ইউক্রেন, আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, বুরকিনো ফাসো, কেম্বোডিয়া, জর্জিয়া, গিনি বিসাউ, ইরিত্রিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজিস্তান, লাওস, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনিগ্রো,তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম ও জাম্বিয়ার নাগরিকরা।

এছাড়া চীন, নেপাল, মেসিডোনিয়া, মাদাগাস্কারের নারীরা দিবসটিতে সরকারি ছুটি ভোগ করেন।