মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসায়

মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মুক্তি পেয়ে তিনি গুলশানের বাসায় গিয়েছেন। দীর্ঘ ৭৭৫ দিন পর তিনি বাসায় ফিরলেন।

হুইল চেয়ার ছেড়ে গাড়িতে উঠছেন বেগম খালেদা জিয়া

আইনী প্রক্রিয়া শেষ করে বুধবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হন বেগম খালেদা জিয়া। সেখান থেকে সরাসরি গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় যান তিনি।

খালেদা জিয়া হাসপাতাল ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন হালকা গোলাপি রঙের একটি শাড়ি পরে। এ সময় একই রঙের হিজাব ছিল মাথায়। হালকা নীল রঙের মাস্ক পরে তিনি গাড়িতে ওঠেন। গাড়িতে উঠে তিনি মাস্ক খুলে ফেলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও পরিবারের সদস্যরা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে গুলশানের বাসায় যান। খালেদা জিয়ার ছোট ভাইয়ের নিশান পেট্রল গাড়ি নিয়ে তারা হাসপাতাল থেকে বের হন। এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী ‘সিএসএফ’র সদস্যদের পাঁচটি গাড়ি ও মাইক্রোবাস তাদের সাথে ছিল।

ছোট ভাইয়ের গাড়িতে করে গুলশানের বাসায় রওনা হন বেগম খালেদা জিয়া

করোনা আতঙ্ককে তুচ্ছ করে নেতা-কর্মীরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হন। তাদের ভিড় ঠেলে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরকে বের হতে হিমশিম খেতে হয়।

এর আগে বুধবার সকালে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের আবেদনে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাজা স্থগিত করে মুক্তির আদেশের নথি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় থেকে তা পাঠানো হয় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে। সেখান থেকে নির্দেশনামা বেলা ৩টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে।

বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আইনমন্ত্রী আনিসুল জরুরী সংবাদ সম্শেলন করে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি জানান। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, মানবিক দিক বিবেচনা করে দুই শর্তে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী খালেদা জিয়া বাসায় থেকে চিকিৎসা নিবেন এবং তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। তিনি ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরে অসুস্থতার কারণে ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *