রণেশ দাশগুপ্তের ১১৪তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত

নিউজ ডেস্ক

মার্কসবাদী সাহিত্যিক ও সাংবাদিক রণেশ দাশগুপ্তের ১১৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রণেশ দাশগুপ্ত স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে “উপন্যাসের শিল্পরূপ: রণেশ দাশগুপ্ত ও আজকের ভাবনা” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি বিকেলে গেন্ডারিয়া সীমান্ত খেলাঘর আসর মিলনায়তনে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভাপ্রধান ছিলেন পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সাহা। “উপন্যাসের শিল্পরূপ: রণেশ দাশগুপ্ত ও আজকের ভাবনা” বিষয়ে মূল পাঠ উপস্থাপন করেন তরুণ সাহিত্য সমালোচক তন্ময় দাস।

সংস্কৃতজন ও গবেষক সোহরাব উদ্দীন তার আলোচনায় বলেন, পুঁজিবাদী শ্রেণি শিল্প, সাহিত্য ও মিডিয়া দিয়ে আমাদের মনোজগতে শোষণ পাকাপোক্ত করেছে। তারা শ্রেণি চেতনা তৈরি হতে দেয় না। হিটলারকে যেমন তৈরি করেছিলো সামন্তবাদ ও নব্য পুঁজিবাদ, তেমন আধুনিক পুঁজিবাদ তৈরি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। এরা এমন আগ্রাসী যে একটি দেশের প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে আসে আর জাতিসংঘ ঘুমায়। রণেশ দাশগুপ্ত শিল্প সাহিত্যের মধ্যে শ্রেণি চেতনা তৈরি করার কাজ সুনিপুণভাবে করে গেছেন। তাই আজও তার সাহিত্য চর্চা জরুরি।

অধ্যাপক ড. অমল চক্রবর্তী বলেন, ইউরোপিয় সাহিত্যে যে রেনেসাঁর শুরু হয়েছিলো তার প্রভাব পরেছিল সারা পৃথিবীতে। কিন্তু সাহিত্য রচনা করলেই হবে না, তার স্থায়িত্বই প্রমাণ করে প্রয়োজনীয়তা। তাই এখনও রণেশ দাশগুপ্তের সাহিত্য চর্চার প্রয়োজনীয়তা আছে এবং থাকবে। তার সংস্কৃতি ভাবনা চর্চা আজ সময়ের দাবি।

পাঠাগার সংগঠক গোলাম রাব্বী খান বলেন, আমরা কেউ শ্রেণির বাইরে যেতে পারি না। কথায়, লেখায়, গানে বা জীবনচর্চায় রণেশ দাশগুপ্তের মতো মানুষেরা সহজেই অনুধাবন করতে পেরেছেন। শোষক আর শোষিতদের মাঝে যে সংগ্রাম ও তার মুক্তির পথ মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ এটা রণেশদার সাহিত্য পড়লেই বোঝা যায়। আমাদের বিশ্ব সাহিত্য পড়ায় উৎসাহিত করে গেছেন রণেশ দাশগুপ্ত।

সভাপ্রধান বিকাশ সাহা বলেন, আমাদের উদ্যোগের প্রভাব সমাজে পড়তে হবে। আলো দিয়ে আলো জ্বালতে হবে। আমরা রণেশদাকে যতো চর্চা করবো ততো মানুষ চিনতে পারবো, মানুষের মুক্তির পথ খুঁজে পাবো। শিল্প-সাহিত্যের বিকাশ হয় যত্নশীল চর্চায়, সেই যত্নও ছড়িয়ে দেয়ার কাজ আজ জরুরি।

পাঠ উপস্থাপক তন্ময় দাস বলেন, রণেশদার ‘উপন্যাসের শিল্পরূপ’ বইটির ক্যানভাস অনেক বড়। বইটি পড়লে বিশ্বসাহিত্য জগতের স্বাদ নিতে হয়। তখনই বোধে আসে সাহিত্যের রস কি? কিভাবে শোষকশ্রেণি আমাদের মনোজগতে তাদের দাসত্ব স্থায়ী করে, আবার শ্রেণি চেতনার ভিতর দিয়ে শ্রেণি সংগ্রামে শোষণমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব। রণেশ দাশগুপ্ত শ্রেণি দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে ‘ইল্যুউশন এন্ড রিয়েলিটি’ অর্থাৎ মায়া ও বাস্তবতা পাঠকের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস নিয়েছেন। আর এ কারণেই তিনি অমর।

রণেশ দাশগুপ্ত/এএমটি/টিটি

আরও খবর পড়তে:  NRB365.com

আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ART News BD

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *