লাথি মার, ভাঙ্গরে তালা

নেত্রকোনা মুক্তারপাড়ায় নির্মিত হয়েছে স্টেডিয়াম। স্টেডিয়াম নির্মাণের পর সেখান থেকে নির্বাসিত হয়েছে ফুটবল, ক্রিকেটসহ সব ধরণের খেলা। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সিদ্ধান্তে ক্রিকেট একাডেমিও অধিকার হারিয়েছে প্র্যাকটিস করার। কারণটা বড় অদ্ভুত। মাঠ নষ্ট হবে বলে সে মাঠে খেলা যাবে না। জেলা ক্রীড়া সংস্থার এই উদ্ভট আচরণ নিয়ে নেত্রকোনার সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী আকাশ আলম তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফেসবুকে। তার পোস্টটি কোন ধরণের সম্পাদনা, পরিবর্তন বা সংযোজন, বিয়োজন ছাড়াই আমাদের পাঠকদের জন্য:

“কি আর বলব? একটা মাত্র মোক্তারপাড়া মাঠ যেখানে সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত। একইমাঠে বিভিন্ন বয়সের বাচ্চারা ক্রিকেট বল সব খেলে। যাদের স্টেডিয়াম মাঠে ঢোকার সুযোগ নেই। শুধু সাধারণ নয় ক্রিকেট একাডেমির ক্রিকেটারদেরও স্টেডিয়াম চত্ত্বরে অনুশীলনের সুযোগ নেই। একটি সাইনবোর্ড ঝুলানো মোক্তারপাড়া মাঠের কোনায় খোলা জায়গায় একটি আলমারিতে রাখতে হয় শিশুদের প্রয়োজনীয় জিনিস পাত্রাদি। শিল্পকলার কেচি গেইটের বাইরের সিড়িতে বসে ছেলেরা রেস্ট নেয়। যে খেলায় বাংলাদেশকে চিনেছে সারা বিশ্ব। আর ক্রীড়া সংস্থার দখলে পুরো খেলার টাকা পয়সা জায়গাসহ স্টেডিয়াম ব্যাবস্থা। তারা সর্ব সাধারণ তো দূরের কথা। লিস্টেড খেলোয়াড়দেরকেই মাঠে ঢোকার সুযোগ দেয় না মাঠ নস্ট হবে বলে। ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদকের এমন বক্তব্য আমার কাছে রেকর্ড আছে। মাঠ নস্ট হবে তাই দেয় না। এখন এমতাবস্থায় এই মোক্তারপাড়া মাঠটা অন্তত সর্ব সাধারণের জন্য খোলা রাখা দরকার ছিলো। কালেক্টরেট সহ স্টেডিয়াম মাঠেও বা ধান কেটে ফেলা বড় জমিতেও কিন্তু বানিজ্য মেলার আয়োজন করা যেতো।
যেহেতু ওই মাঠে শুধু ফুটবলই খেলা হয়। এদিকে সারা বছরই মোক্তারপাড়া মাঠে এই সেই প্রোগ্রাম চলে। এর ফাঁকে ফুকে বাচ্চারা খেলে। এইমাস টাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিশুদের জন্য।
বছরের প্রথম মাসেই পড়ার বেশি চাপ থাকে না। তাই মন ভরে একমাস খেলতে পারে। সেখানে এই সুযোগ টাকে বন্ধ করে দেয়ার আগে অন্তত প্রশাসন সহ যারা এইসবের সাথে জড়িত তাদের ভাবা উচিৎ ছিলো। মাদকমুক্ত সুন্দর সমাজ বিনির্মানে বড় বড় আলাপ বক্তৃতা করেন যারা তারাই কি শিশুদের মানসিক বিকাশ নস্ট করে দিচ্ছেন না?
এছাড়া যে ক্রিকেট একাডেমির ক্রিকেটারদের অনুশীলন চলতো তারা এখন কোথায় যাবে? ফুটবল খেলার ছেলেরা কোথায় একটু বিকালে খেলবে?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *