সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো গর্হিত কাজ করেছে

0
1642
শনিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশিদের বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া বিদেশি দূতাবাসগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনেরও সমালোচনা করে বলেন, দেশিদের বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে গ্রহন করে ঠিক করেনি।

শনিবার সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে পৌঁছান সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে। কেন্দ্রের প্রথম ভোটার হিসেবে ২৪১ নম্বর রুমে সকাল ৮টায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোট দেন।

ভোট দিয়ে বেরিয়ে এসে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন সাংবাদিকদের সাথে। এসময় দূতাবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া সংক্রান্ত প্রশ্ন  প্রধানমন্ত্রীকে করা হলে তিনি বলেন, যারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তাদের দেশে ভোট কেমন হয়; এমন কিছু কিছু নমুনা আমাদের জানা আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দূতাবাসে বাংলাদেশি নাগরিক যারা চাকরি করেন, তাদের তারা বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গর্হিত কাজ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, তারা বিদেশি হয় কি করে? পর্যবেক্ষক হয় কি করে? ওখানে তারা চাকরি করে, তাদের তারা বিদেশি পর্যক্ষেক হিসেবে পাঠায় কি করে? এটা তারা (দূতাবাস) সঠিক কাজ করেনি।

শেখ হাসিনা বলেন, এদের মধ্যে অনেক বৈরি লোক আছে। কারও পিতা ৭৫-এ হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত ছিলেন বা কেউ ছিল স্বাধীনতাবিরোধী। মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা চালিয়েছে। তাদের উত্তরসূরি এমন অনেক আছে। তারা রাষ্ট্রদূতদের ওখানে চাকরি করে। তাদের নামও তারা ওখানে দিয়েছে।

এ সময় সরকার প্রধান সমালোচনা করেন নির্বাচন কমিশনেরও। বললেন, তারা সঠিক কাজ করেনি। দেশিদের বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে নির্বাচন কমিশন কিভাবে গ্রহন করলো? আইনে স্পষ্ট বলা আছে, বিদেশি পর্যবেক্ষক মানে বিদেশি হতে হবে। দেশের নাগরিক, কিভাবে তাদের বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করেছে আমি জানি না। এটা তারা গ্রহণ করে ঠিক করেনি।

নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে সরকার প্রধান বলেন, তাদের (ইসি) উচিতওই সব পর্যবেক্ষক, যারা বাংলাদেশের নাগরিক বিভিন্ন দূতাবাসেচাকরি করেন, তাদের পর্যবেক্ষক হিসেবে গ্রহণ না করে এবং তারা ভোট কেন্দ্রে আসতে না পারে সে ব্যবস্থা করা। ভোট দিতে আসতে পারবে, কিন্তু পর্যবেক্ষক হিসেবে নয়।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন দশটি দেশের ৭৪ জনকে বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দিয়েছে। এদের মধ্যে ২৮ জন বাংলাদেশের নাগরিক এবং বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি করেন। বাংলাদেশের নাগরিকদের বিদেশি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো জালিযাতির আশ্রয় নিয়েছে।