সীমিত হয়েছে মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠান

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক স্বপন পরামর্শ দিয়েছেন কাউকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য। তিনি বললেন, করোনা ভাইরাস মারাত্মক কিছু নয়, কিন্তু ছোঁয়াচে। যা একজনের শরীর থেকে আরেক জনের শরীরে প্রবেশ করে। তিনি জনসমাগম এড়িয়ে চলতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি জানান, মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠান সীমিত করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে করোনা ভাইরাস ইস্যুতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, করোনা ভাইরাস শনাক্তের বিষয়টি সরকার বুঝতে পারছিল। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরা বুঝতে পারছিলাম এটা হবে। এ সময় তিনি জনসমাগেম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে ক্রিকেট ম্যাচে লোক সমাগম না করার অনুরোধ জানান।

রোগের উপসর্গ সম্পর্কে জাহিদ মালিক বলেন, করোনার উপসর্গ হচ্ছে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট। তিনি পরামর্শ দেন, নাক ও মুখে হাত দেয়া বন্ধ করতে হবে। করমর্দন করার দরকার নেই। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। তিনি হাত বার বার ধোয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এতে সংক্রমণ কম হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্কুল কলেজ স্বাভাবিকভাবে চলবে। পরে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্কুলে কোন সমস্যা নেই। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ মুহূর্তে দেশে আসার প্রয়োজন নেই।  তিনি বিয়ে বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দেন।

জাহিদ মালিক বলেন, সারা পৃথিবীতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত ১০২টি দেশে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৫ হাজার। মারো গেছে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সব মন্ত্রণালয়কে এক সাথে কাজ করতে হবে। সবাই সাহায্য করলে মোকাবেলা করা সহজ হবে। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা ১০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইরান বা কোরিয়ার মত পরিস্থিতি যেন আমাদের না হয়। সেই বিষয়টি আমরা এড়িয়ে যেতে চাই। আমরা সতর্ক রয়েছি।

মন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত ৫ লাখ লোককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে তৎপর রয়েছেন। তিনি মুজিব বর্ষের বিভিন্ন অনুষ্ঠান সীমিত করেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। যাদের মধ্যে লক্ষণ নেই তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে না। তাদের সেলফ কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হচ্ছে। আর যাদের মধ্যে লক্ষণ আছে তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।

সতর্কতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ঢাকায় ৫০০ বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে ১০০ বেড এবং উপজেলা পর্যায়ে ৫০ বা ২০ বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জামাদি প্রস্তুত আছে। পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা আছে। গত জানুয়ারি মাস থেকেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাধ্যমত চেষ্টা থাকবে বলেও উল্লেখ করেন জাহিদ মালিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *