রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে মাদরাসা ছাত্রদের ব্যবহার করা হয়েছিল

২০ এপ্রিল ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): হেফাজত নেতা মামুনুল হক রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেছিলেন। এ কাজে তিনি ব্যবহার করেন ক্বওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের। উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা করেছিলেন সে কারণে।

মঙ্গলবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সব কথা জানানো হয়। বলা হয়, পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে এ সব তথ্য জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, তাবলিগ জামাতের মাওলানা সাদপন্থীদের মারধরের কথাও স্বীকার করেছেন মামুনুল।

মামুনুল হক স্বীকার করেছেন, ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতা দেয়ার সময় জোশের কারণে বিশিষ্ট নাগরিকদের সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্যও দিয়েছেন।

দুপুর পৌণে ১২টায় সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সিআইডি’র অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান। জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে নাশকতার ঘটনায় মামুনুলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ড চাইবে সিআইডি।

ব্যারিস্টার মাহবুব জানান, হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া ২৩টি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে সিআইডি। এরমধ্যে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৫টি, কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও মুন্সিগঞ্জের দুইটি করে মামলা।

তিনি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৫টি মামলার মধ্যে দশটি মামলা চলতি বছরের। বাকি ৫টি মামলা ২০১৬ সালের। এই মামলাগুলোর মধ্যে একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।

মাহবুবুর রহমান জানান, অগ্নি সংযোগ, হামলা, ভাংচুর ও সহিংসতার ভিডিও ফুটেজ ফরেনসিক করা হবে। এরপর, যারা ঘটনায় উপস্থিত ছিল, মদদ বা উস্কানি দিয়েছে, জ্বালাও পোড়াও করেছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

ব্যারিস্টার মাহবুব বলেন, প্রাথমিক তদন্তে তিন ধরনের লোকের সংশ্লিষ্টা পাওয়া গেছে। এদের কেউ উপস্থিত থেকেছে। কেউ আবার অনুপস্থিত থাকলেও ইন্ধন দিয়েছে। আরেক অংশ সরাসরি হামলা ও নাশকতায় জড়িয়েছে।

দ্রুত নিষ্পতি করে মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হবে বলে জানান পুলিশের এই অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক।

মামুনুল/আরএম/রমু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *