২৮ এপ্রিল ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বুধবার ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে ইয়থনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস এবং পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত ‘রোড টু গ্লাসগো: আমাদের পৃথিবীর পুনরুদ্ধার ও জলবায়ু সুরক্ষা’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের পরিবেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় নানা রকমের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যা বিশ্ব দরবারে ব্যাপকভাবে প্রশংশিত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এখনই উদ্যোগী হতে হবে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি বন্ধ করতে বিশ্ববাসীকে জলবায়ু পরিবর্তন, অভিযোজন ও গ্রীন হাউজ নির্গমন কমিয়ে আনতে এগিয়ে আসতে হবে।
পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)’র চেয়ারম্যান ডক্টর কাজী খলীকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিনে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নেদারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ অনুবিভাগ) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, একশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, জেন্ডার ও মানবাধিকার কর্মী শীপা হাফিজা ও পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা।
মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন বলেন, প্যারিস চুক্তির অঙ্গিকারের অংশ হিসেবে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে প্রশমন ও অভিযোজনের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সাহায্যের জন্য ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর একশ’ মিলিয়ন ডলার তহবিল উত্তোলনের একটি বিধান রাখা হয়েছিল। তবে তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি বলেন, এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় যোগদানের মধ্যে বিশ্ব নেতারা জলাবায়ু বিষয়ক নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে দৃঢ় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করায় আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জলবায়ু তহবিল সম্পর্কিত একশ’ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী হয়েছি।
মন্ত্রী বলেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসার পর সে দেশের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি প্রশমনে বিশ্বনেতাদের একসাতে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। জো বাইডেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর বিশ্ব ফোরামে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মুখপাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার পাশে রাখতে চেয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে জো বাইডেনের আগ্রহের মূল কারণ ছিল যে জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বব্যাপী যে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, তার সাথে খাপ খাওয়াতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের কিছু আশাব্যঞ্জক কৌশল রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস উপলক্ষ্যে ভার্চ্যুয়ালী আয়োজিত অপর এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন বলেন, শব্দ দূষণ থেকে মুক্ত থাকতে আমাদের প্রত্যেককে শব্দ সচেতন হতে হবে। অপ্রয়োজনীয় শব্দ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে শিশুদের শৈশব থেকেই শব্দ সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে।
রাজধানীর পরিবেশ অধিদপ্তরে আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস উপলক্ষে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ প্রটেক্ট ইউর হেয়ারিং প্রটেক্ট ইউর হেলথ’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত মহাপরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাববুন নাহার, মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর প্রাণ গোপাল দত্ত ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। এছাড়াও কর্মশালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, পুলিশ বিভাগ, পরিবহণ সেক্টর, সিটি কর্পোরেশন, বেসরকারী সংস্থা, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন/এসকেএম















