১ জুন ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): রাজধানীর মহাখালী থেকে হাত, পা ও মাথাবিহীন দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ফাতেমা খাতুন নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তার দেখানো জায়গা থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম ময়না মিয়া।
সোমবার বনানী থেকে গ্রেফতার হওয়া ফাতেমা বেগম নিহত ময়না মিয়ার প্রথম স্ত্রী।
ফাতেমা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি ময়না মিয়াকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে হত্যা করেন। বাসা থেকে লাশ একা সরাতে পারবেন না বুঝতে পেরে তিনি ছুরি দিয়ে লাশটিকে ছয় টুকরা করেন। শরীরের অংশগুলি আলাদা আলাদা জায়গায় ফেললে পুলিশ লাশ শনাক্ত করতে পারবে না বলে ধারণা করেন।
মঙ্গলবার এসব তথ্য জানান ডিবি’র যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ফাতেমা তার স্বামী ময়নাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফাতেমা শুক্রবার কড়াইল থেকে দুই পাতা ঘুমের ওষুধ কেনেন। ওই দিন রাতেই জুসের সাথে সে ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে পান করান। এতে ময়না শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অচেতন ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে কিছুটা জ্ঞান ফিরলে স্ত্রীকে গালাগাল করে। পরে স্ত্রীকে আক্রমণ করতে গিয়ে বিছানায় লুটিয়ে পড়েন।
হারুন অর রশীদ বলেন, ময়না মিয়া এক পর্যায়ে পানি চাইলে ফাতেমা তাকে আবারও ঘুমের ওষুধ মেশানো জুস পান করান। এরপর ফাতেমা ওড়না দিয়ে ময়নার দুই হাত শরীরের সাথে বেঁধে মুখে স্কচ টেপ লাগিয়ে দেয়। এরপর ছুরি দিয়ে ময়নার গলা কাটেন।
তিনি জানান, ময়না মিয়ার নিথর দেহকে ছয় টুকরা করা হয়। শরীরের অংশ মহাখালী কাচাবাজার, দুই হাত ও দুই পা মহাখালী বাস টার্মিনালে এবং মাথাটি বনানী ১১ নম্বর ব্রিজের পাশে ফেলা হয়। লাশের বিভিন্ন অংশ আলাদা আলাদা জায়গায় ফেলে ফাতেমা বাসায় ফিরে আসেন।
ফাতেমার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ময়না মিয়ার রক্তমাখা জামাকাপড়, ধারালো ছুরি, দা, বিষাক্ত চায়ের কাপ ও শীল পাটা উদ্ধার করেছে।
গ্রেফতার/এএমএম/কিউটি












Leave a Reply