৯ জুন ২০২২ (নিউজ ডেস্ক): আপনি যদি রোমাঞ্চ পছন্দ করেন, তবে চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ হতে পারে আপনার জন্য রোমাঞ্চকর এক ভ্রমণ। সে জন্য আপনাকে জুন-জুলাইয়ে যেতে হবে সন্দ্বীপ। যাত্রাপথের শুরুতেই সন্দ্বীপ চ্যানেল পাড়ি দেয়ার মধ্যেই আপনার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা শুরু হবে।
নদী পাড়ি দেয়ার পর ভাগ্য ভালো থাকলে আপনি কাদা না মাড়িয়ে নামতে পারবেন সন্দ্বীপ ভূখণ্ডে। সেখানে যাতায়াতের জন্য আপনি পাবেন মোটরসাইকেল, অকটেনচালিত সিএনজি অথবা রিকশা। তবে সন্দ্বীপে যাতায়াতের খরচ আপনার কাছে বেশ খানিকটা বেশি মনে হতেই পারে।
যাওয়ার আগে আপনি যদি স্থানীয় কারও সাথে যোগাযোগ করে যেতে পারেন, তবে আপনাকে থাকা বা খাওয়ার জন্য আলাদা কিছু চিন্তা করতে হবে না। সন্দ্বীপের মানুষ বেশ অতিথিপরায়ণ। আতিথ্যের আতিশয্যে আপনি বিরক্তও হতে পারেন।
যেদিকেই যাবেন আপনার চোখে গ্রাম-শহরের মিশ্রণ ধরা পড়বে। এসব দেখতে দেখতেই আপনার ভালো সময় কেটে যাবে। পরিচিত কেউ না থাকলেও সমস্যা নেই। ইদানীং বেশ কিছু আবাসিক হোটেল গড়ে উঠেছে পর্যটকদের জন্য। স্বল্প খরচে সেখানে আপনি থাকতে পারেন। বেড়িবাঁধ ধরে পুরো সন্দ্বীপের চারপাশে একটা চক্কর দিতে পারেন। বর্ষাকালে অবশ্য এটি খুব কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। কারণ, ভেতরের রাস্তাগুলো মোটামুটি পাকা হলেও শক্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ বা বেড়ির ওপর পাকা রাস্তা এখনও হয়ে ওঠেনি। কষ্ট করে একটা চক্কর দিলে পুরও সন্দ্বীপের মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পেয়ে যাবেন।
যেতে পারেন সরাসরি পশ্চিম পাড়ের বিচে। সন্দ্বীপের লোকজনের কাছে যা নতুন চর হিসেবে পরিচিত। যেখানেই যান সন্দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী বিনয় শাহের রসগোল্লা খেতে ভুলবেন না। ‘ফকিরা মসজিদ’ (ফকিরিয়া শাহি জামে মসজিদ) দেখতেও ভুলবেন না। ভেজালমুক্ত ছানার তৈরি বিনয় শাহের রসগোল্লা পাবেন সন্দ্বীপের শীবের হাটে। আর ফকিরিয়া মসজিদের অবস্থান বক্তার হাটের উত্তর পাশে, হাট লাগোয়া।
খাবারদাবারের ক্ষেত্রে সন্দ্বীপের মানুষ বেশ সৌখিন। শহরের মানুষের মতো তারা বাজার করে ফ্রিজ ভর্তি করে রাখেন না। প্রতিদিন নদী বা পুকুরের তাজা মাছই তাদের পাতে ওঠে। অতিথি হয়ে আপনিও পেতে পারেন সেই তাজা মাছের স্বাদ। লবণাক্ত সমুদ্রের মাঝখানে মিঠাপানির পুকুর কিংবা নলকূপ দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। হাজার বছর ধরে এ অঞ্চলের মানুষ এসব মিঠাপানিই ব্যবহার করে আসছেন।
বিশেষ করে খাবারদাবারের জন্য যেতে চাইলে আপনি শীতকালে সন্দ্বীপ বেড়াতে যান। সব ধরনের খাবার আপনি পেট আর মন ভরে খেতে পারবেন। শীতের কুয়াশা সকালে তাজা খেজুর রসের পায়েস কিংবা খেজুর গুড় দিয়ে খেতে পারবেন নানা ধরনের ধোঁয়া ওঠা পিঠা। ভাপা, পানখিলি, জ্বালা (নতুন ধানের বীজ পিষে এ পিঠা বানানো হয়), নকশি, শিমফুল, খেজুর, চিতই-সহ হরেক রকমের পিঠার জন্য আপনি সন্দ্বীপ যেতেই পারেন।
যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের যেকোনো গাড়িতে চড়ে কুমিরা ঘাটের ব্রিজে নামবেন। হাইওয়ের নিচে নেমে অটোরিকশা দিয়ে চলে যাবেন ঘাটে। অটোরিকশাভাড়া ১০ টাকা করে নেবে। ঘাটে গেলে আপনি সার্ভিস বোট (মূলত ট্রলার) বা স্টিমার পেয়ে যাবেন। ভাড়া ১০০ থেকে ১২০ টাকা। স্পিডবোট আপাতত বন্ধ রয়েছে।
সন্দ্বীপ পৌঁছানোর পর যাতায়াতের ক্ষেত্রে আপনাকে বেশ সাবধানতার সাথে দর–কষাকষি করতে হবে। বাইরে থেকে ঘুরতে এসেছেন বুঝে গেলেই বেশি ভাড়া চাইবে। আর আগেই বলা হয়েছে, এখানকার যাতায়াত খরচ বেশ বাড়তি। গুলিয়াখালী কিংবা বাঁশবাড়িয়া দিয়েও সন্দ্বীপ যাওয়া যায়। কিন্তু এই দুই দিকের যাতায়াতই তুলনামূলকভাবে বেশ কষ্টসাধ্য।
সন্দ্বীপ/এসকেএম/কিউটি
আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD
















Leave a Reply