১১ জুন ২০২২ (নিউজ ডেস্ক): ইট-কাঠের জঞ্জাল আর শহুরে কোলাহল থেকে খানিকটা দূরে যেতে চায় সবাই। সময় আর আর্থিক সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে অনেকেই ছুটে যান প্রকৃতির রাজ্যে। পছন্দ মত তারা বেছে নেন পাহাড়, সাগর, বন কিংবা নীরব প্রকৃতি। এক্ষেত্রে পছন্দের তালিকায় এগিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্পট। এমন এক স্পট সাজেক ভ্যালি।
সাজেক ভ্যালি, বাংলাদেশের দার্জিলিং। দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে পর্যটন এলাকাটি। ইতোমধ্যে সাজেকে গড়ে উঠেছে দেড় শতাধিক রিসোর্ট।
সাজেকভ্যালি ঘিরে পর্যটন স্থাপনার আবিষ্কার ২০০৮ সালের দিকে। ওই সময় স্থানীয় লোকজন এবং বিজিবির উদ্যোগে নির্মিত হয় কয়েকটি সাধারণ কটেজ। পরে পরিচিতি পাওয়ায় ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে পর্যাপ্ত রিসোর্ট। যেখানে রয়েছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ স্থানীয় লোকজনের বহু স্থাপনা।
সরকারিভাবে সাজেক ভ্যালিকে পর্যটন জোন ঘোষণা করার কথা থাকলেও আজও তা হয়নি। পর্যটন জোন ঘোষণা করা হলে দ্রুত অর্থনৈতিক অবস্থা পাল্টে যাবে বলে ধারণা অনেকের।
পরিচিতি
ওপারে ভারত আর এপারে বাংলাদেশের ভূখণ্ড। সাজেক ভ্যালি যেন ভূস্বর্গ। মেঘ ছুঁয়ে যায় আকাশছোঁয়া পাহাড় চূড়ায়। পরশ বোলায় হিমেল বাতাস। চারদিকে ঘন সবুজের সমারোহ। পাদদেশে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি নদী সাজেক। সেই অপরূপ পাহাড়ি নদীর নাম ঘিরেই সাজেক ভ্যালি।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের আধার সাজেক ভ্যালির অবস্থান রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায়, ভারতের মিজোরাম সীমান্তবর্তী এলাকায়। এটি দেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। আয়তন ৭০২ বর্গ মাইল। এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু, পূবে ভারতের মিজোরাম ও পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা।

কিভাবে যাবেন
সড়কপথে সাজেক যাওয়া যায় খাগড়াছড়ি জেলা সদর হয়ে। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। দীঘিনালা থেকে ৪৯ কিলোমিটার এবং বাঘাইহাট থেকে ৩৪ কিলোমিটার।
পথে পড়বে বাঘাইহাট পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্প। সেখান থেকে সাজেক ভ্রমণের মূল অনুমতিপত্র নিতে হবে।
তবে রাঙামাটি থেকে বাসে বা রিজার্ভ বাজার থেকে নৌপথেও যাওয়া যায় সাজেক ভ্যালিতে। বাস বা লঞ্চে যেতে হবে বাঘাইছড়ি। সেখান থেকে মোটরবাইক, সিএনজি চালিত অটোরিকশা বা চান্দের গাড়িতে যেতে হয় সাজেক ভ্যালিতে।
খাগড়াছড়ি সদর বা দীঘিনালা থেকে সাজেক ভ্যালি যেতে পারেন চান্দের গাড়ি বা মাহেন্দ্রতে করে।
যেভাবেই যান না কেন, মনে রাখবেন খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক ভ্যালি যাতায়াতের খরচ অনেক। তাই যাওয়ার আগে ভাড়ার হিসেব করে নিতে হবে। তা না করলে বিপদে পড়তে হবে।
সাজেক ভ্যালি/এসকেএম/আরএম
















Leave a Reply