নিউজ ডেস্ক: ভূমি আইন ২০২৩ অবিলম্বে সংসদে পাশ, আইনে কৃষক স্বার্থের পরিপন্থি ধারা বাতিল, চরাঞ্চলে কৃষকদের প্রজাস্বত্ব বহাল ও খাজনা-খারিজ চালুর দাবিসহ ৬ দফা দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছে ‘সংগ্রাম কমিটি’।
শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ‘চরাঞ্চল ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও কৃষি স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’র আহ্বায়ক নাটুয়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রবীণ কৃষক নেতা আব্দুল কাদের। সঞ্চালনা করেন সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক কৃষকনেতা জাহিদ হোসেন খান।
মানববন্ধনের শুরুতে আন্দোলনের সংগীত পরিবেশন করেন সংগ্রাম কমিটির কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটির অন্যতম সদস্য আলতাফ হোসেন মাস্টার, সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, কাজীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক সরকার (বকুল), ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজা, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা আবুল কালাম আজাদ, কৃষকনেতা আব্দুল মান্নান ভূইয়া, হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকান্দার হায়াৎ, বস্তিবাসী নেতা জহিরুল ইসলামসহ অন্যরা।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, নানা সমস্যা-সংকটের মধ্যেও কৃষি জমির যথাযথ ব্যবহার করে কৃষক ক্ষেতমজুররা দেশের অগ্রগতি সাধন করে চলেছে। এজন্য তিন ফসলি জমি, চরের জেগে উঠা জমি ব্যবহার যাতে প্রকৃত কৃষকরা করতে পারে তারজন্য যথাযথ আইন প্রনয়ণ ও আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা পরিবেশ বান্ধব সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের পক্ষে তবে কৃষককে বঞ্চিত করে লুটপাটের লক্ষ্যে তিন ফসলি জমিতে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন সমর্থন করি না। এজন্যেই আমরা সংগ্রাম কমিটির দাবির সাথে একাত্বতা প্রকাশ করছি এবং প্রয়োজনে আইনের সংশোধন করে দাবির যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে সংগ্রাম কমিটির নেতারা বলেন, দেশের নদী সিকস্তি অঞ্চলে বসবাসকারী তিন কোটি মানুষ জান-মালের ঝুঁকি নিয়ে সব প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে অনাবাদযোগ্য উঁচুনিচু জমি আবাদযোগ্য করে দেশের কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সব গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল আন্দোলনে বীরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে, কৃষকের ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠায় যুগযুগ ধরে লড়াই করেছে। অথচ স্বাধীন দেশে আইনের মারপ্যাঁচে আজ চরের মানুষ তার পৈত্রিক জমির প্রজাস্বত্ব হারিয়েছে। ভূমি অফিস, জেগে উঠা চরে পূর্বতন মালিক বা তার উত্তরাধীকারকে জমি খারিজ দেয়না। বিগত সময়ে বিভিন্ন জরিপে নিজ নামে জমি-জমা রেকর্ড করা সত্বেও ভূমি অফিস খাজনাদি না নেয়ায় এসব অঞ্চলের মানুষ জমিজমা ক্রয়-বিক্রয় করতে পারছে না। এতে এসব অঞ্চলের মানুষ জমিজমা থাকা সত্ত্বেও উচ্চশিক্ষা ও জরুরী চিকিৎসা নিতে পারছে না। আমরা বেদনার সাথে আরও লক্ষ্য করি নদী ভাংগনে সর্বস্ব হারানো মানুষের ক্ষতিপূরণ ও পুর্নবাসনের কোন ব্যবস্থা নেই। বর্তমানে বিশেষজ্ঞ সমীক্ষা ছাড়াই সারাদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে নদী খনন করার নামে চলছে বালু ব্যবসার মহোৎসব। বালু মাফিয়াচক্র ড্রেজিং এর নামে কৃষকদের কায়েমি জমি কেটে নিচ্ছে। নদীর পাড় সংরক্ষণও ঢালু সঠিক মাপমতো না করায় নদী খননের পরে জমিজমা ভেঙে আবার নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদী ভাংগন রোধে ও জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়না। এসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুর্নবাসনের ব্যবস্থা নেই। তাই নদী সিকস্তি অঞ্চলের মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার সার্থেই লড়াই সংগ্রামে নামতে হয়েছে।
তারা বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সারাদেশের নদী ভাঙন কবলিত এলাকায় তিন শতাধিক মানববন্ধন/সভা-সমাবেশ করেছি, তিনদিন ব্যাপী নৌযাত্রা করেছি, ইতোপূর্বে ঢাকায় মানববন্ধন করছি, আজও করছি। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সব সাংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই- আমাদের এই ন্যায়সংগত দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ নিন। স্বাধীন বাংলাদেশে কোন ধরনের বৈষম্যমূলক, অন্যায্য ও অযৌক্তিক আইন থাকতে পারে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে। বক্তারা ‘চরাঞ্চল ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও কৃষি স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’র ৬ দফা দাবী আদায়ে চলমান লড়াইয়ে সারাদেশের কৃষকদের সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
আন্দোলন/এমএএম
আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD















Leave a Reply