বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক; শ্রদ্ধা প্রণব মুখার্জীর জন্য

বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু এবং ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। ২ সেপ্টেম্বর বুধবার এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় শোক উপলক্ষ্যে ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

প্রণব মুখোপাধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ আগস্ট দিল্লির আর্মি হসপিটাল রিসার্চ অ্যান্ড রেফারালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

উল্লেখ্য, প্রয়াত প্রণব মুখার্জী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারকে সমর্থন দেয়ার জন্য তিনি ১৯৭১ সালের ১৫ জুন রাজ্যসভায় প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

এছাড়াও তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় কলিকাতায় নিজ বাড়িতে বাঙালিদের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন। এছাড়াও প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইন্টার পার্লামেন্টারিয়ান বৈঠকে তিনি ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে অংশ নেন। সে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায়ে ভূমিকা রাখেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দিতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

ভারতের অর্থমন্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রণব মুখার্জী মাত্র ১ শতাংশ সুদে বাংলাদেশকে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।

ভারতের রাষ্ট্রপতি থাকাকালে প্রণব মুখার্জী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার স্থল ও সমুদ্র সীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেন।

এছাড়াও, ওয়ান ইলেভেনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে মাইনাস-টু ফর্মুলা বাস্তবায়নে প্রণব মুখার্জীর সহায়তা চাওয়া হলে তিনি এর সরাসরি বিরোধিতা করেন। এমনকি বাংলাদেশের দুই নেত্রীর কারামুক্তির বিষয়েও ভূমিকা রাখতে সচেষ্ট হন। এ বিষয়ে তিনি সেসময়কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশেরও সহায়তা চান।

প্রণব মুখার্জী তার আত্মজীবনীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতি নিয়ে অনেক কথা লিখেছেন। সেখানে তিনি তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে। বলেছেন সামরিক শাসন ও ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ প্রসঙ্গেও।

উল্লেখ্য, প্রণব মুখার্জীর শশুর বাড়ি বাংলাদেশের নড়াইল জেলায়। ভারতের রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় তিনি নড়াইলে বেড়াতে আসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *