গ্রাম সমবায় সমিতি গড়ার আহ্বান

০৭ নভেম্বর ২০২০ (নিউজ ডেস্ক): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ থেকে দারিদ্র্য নির্মূলে বহুমুখী গ্রাম সমবায় সমিতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা যদি বহুমুখী গ্রাম সমবায় গড়ে তুলতে পারি, তাহলে বাংলাদেশে কোন দারিদ্র্য থাকবে না। দারিদ্র্য সম্পূর্ণ নির্মূল হবে। আমরা সেটা করতে পারবো। এ সময় তিনি কথা বলেন করোনা ভাইরাসের প্রকোপ নিয়েও। বলেন, শীতের আগমণের সাথে সাথে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে পারে। এ বিষয়ে তিনি সবাইকেপারো ভাইরাসের প্রকোপ নিয়েওহনতে পারে সতর্ক করেন এবং স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণের আহ্বান জানান। মাস্ক ছাড়া ঘরের বাইরে যেন কেউ বের না হন সেদিকে দৃষ্টি রেখে নিজেকে এবং অপরকে নিরাপদ রাখার আহ্বান জানান।

শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ৪৯তম জাতীয় সমবায় দিবস ২০২০ উদযাপন এবং জাতীয় সমবায় পুরস্কার ২০১৯ প্রদান অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী সমবায়ের ক্ষেত্রে নারীদের আরও বেশি করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, সমবায়ীদের আরও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

জাতির পিতা সংবিধানে সমবায়ের কথা বলে গেছেন এবং তিনি বাধ্যতামূলক বহুমুখী সমবায়ের কথাও বলেছেন বলে উল্লেখ করেন সরকার প্রধান। বলেন, জাতির পিতা জানতেন, কিভাবে বাংলাদেশের উন্নতি হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রচেষ্টায় সমবায় সমিতি এবং সমবায়ীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে সমিতির সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ৫৩৪টি। এর সদস্য সংখ্যা ১ কোটি ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪৭ জনে উন্নীত হয়েছে।

বর্তমানে সমবায়ের মোট সদস্যের মধ্যে মাত্র ২৩ শতাংশ নারী হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সমবায় কার্যক্রমে মহিলাদের সম্পৃক্ততা আরও বৃদ্ধি করার আহবান জানান।

এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, আরও বেশি সংখ্যক মহিলাদের সমবায় কার্যক্রমে এগিয়ে আসা উচিত। কারণ সমাজের অর্ধেক অংশইতো নারী। নারীরা যদি বেশি করে এগিয়ে আসে তাহলে দুর্নীতি একটু কমবে এবং কাজ বেশি হবে। প্রতিটি পরিবার উপকৃত হবে। আমি মেয়েদের আরও সামনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, সমবায়ের মাধ্যমেই দেশকে উন্নত করতে জাতির পিতার নীতিতেই আমরা বিশ্বাসী।

তিনি বলেন, যারা সমবায়ের সাথে জড়িতদের অনুরোধ করবো- বড় লাভের আশা না করে আপনারা আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেন। এতে এটা একটা বড় স্থায়ী, উৎপাদনমুখী এবং লাভজনক প্রতিষ্ঠান হবে। যাতে প্রত্যেকেই লাভের অংশটা পাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, কেবল একা খাব তা নয়, সবাইকে নিয়ে, সবাইকে দিয়ে খাব, সবাইকে নিয়েই কাজ করবো সেই চিন্তা-ভাবনাটাই সমবায়ে সব থেকে বেশি প্রয়োজন। আপনারা সেটাই করবেন, সেটাই আমরা চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সমবায়ী তাদের প্রত্যেকেরই এখানে একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। সেভাইে আপনারা কাজ করে যাবেন যাতে বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধা এবং দারিদ্য্রমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুষ্ঠানে এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এবং প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য বিজয়ীদের মাঝে সমবায় পুরস্কার ২০১৯ বিতরণ করেন।

দেশের সমবায় খাতের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে অনুষ্ঠানে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী সমবায় অধিদপ্তর প্রকাশিত ‘সমবায়ের সাফল্য গাঁথা’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

কতগুলো জনগোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করে সরকারের পাশাপাশি সমবায়ীদের সেদিকে দৃষ্টি দেয়ার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের প্রসঙ্গে বলেন, মহান আল্লাহই তাদের এভাবে জন্ম দিয়েছেন। কাজেই তাদের নিজেদের কোন দোষ নেই। কাজেই তারা কেন পরিবারের অংশ হিসেবে লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হতে পারবে না এবং কাজ পাবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাসমান বেদে সম্প্রদায়কে মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকার জায়গা দিয়ে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সমবায় সমিতি করে দেয়ার মাধ্যমে জীবন-জীবিকায় নতুন করে উৎসাহ যোগানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করি। ২০১২ সালে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিকে একাডেমিতে রূপান্তরিত করা হয়। সেখান থেকে মানুষকে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

সরকার প্রধান বলেন, সরকার দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক অগ্রগতি ও নারী-পুরুষ সমতার উদ্দেশ্যে ১৯৯৯ সালে পল্লী-দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে।

তিনি বলেন, সরকার জাতীয় সমবায় নীতিমালা-২০১২, পুণরায় সমবায় সমিতি (সংশোধন) আইন- ২০১৩ এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার ২০০৯ সালে ‘আমার বাড়ী, আমার খামার প্রকল্প’ গ্রহণ করে। বর্তমানে এ প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ২১ হাজার ১৪২টি সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৫৬ লাখ ৪১ হাজার পরিবার উপকৃত হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ প্রতিশ্রুতির আলোকে সমবায় ভিত্তিক আদর্শ গ্রাম প্রকল্প গ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ১০টি গ্রামে ‘বঙ্গবন্ধুর গণমুখী সমবায় ভাবনার আলোকে’ ‘বঙ্গবন্ধু মডেল গ্রাম প্রতিষ্ঠা পাইলট প্রকল্প’ বাস্তবায়ন শুরু করেছি।

তিনি সংশ্লিষ্টদের এই প্রকল্প সফল করার আহবান জানিয়ে বলেন, এর ভিত্তিতে সব গ্রামকেই আমরা উন্নত করে দিতে পারবো। যাতে গ্রামের মানুষ আরো উন্নত জীবন পায় এবং সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে।

তিনি সরকারের আরও উন্নয়মমুখী এবং সাধারণ জনগণের জন্য নেয়া পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমরা ‘সমবায় ভিত্তিক দুগ্ধ উৎপাদন নিশ্চিতকরণ প্রকল্প’ এবং ‘দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম বিস্তৃতকরণের মাধ্যমে বৃহত্তর ফরিদপুর, বরিশাল ও খুলনা জেলার দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করেছি। মিল্ক ভিটার মাধ্যমে সিরাজগঞ্জে দুগ্ধ কারখানায় গো-খাদ্য উৎপাদন, গুঁড়ো দুধ উৎপাদন কারখানা এবং মহিষের কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র স্থাপন করেছি।

তিনি বলেন, চরাঞ্চলগুলোতে বা উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ভেড়া এবং মহিষ ভালভাবে লালন-পালন করা যেতে পারে, যেটা লাভজনক হবে।

তিনি বলেন, আমরা দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের পটিয়ায় দুগ্ধ কারখানা স্থাপন এবং ‘বৃহত্তর ফরিদপুরের চরাঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় গবাদি পশুর জাত উন্নয়ন ও দুগ্ধের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিতকরণ কারখানা স্থাপন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি।

পিএম/এসকেএম/রমু

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *