ইন্দো-বাংলা মৈত্রী দৃঢ়তর হবে

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): বাংলাদেশ ও ভারত দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মৈত্রীর বন্ধন দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হবে বলে প্রত্যাশা প্রত্যাশা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, এর জন্য জাতির পিতার অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

শুক্রবার এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ প্রত্যাশার কথা বলেন। ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলিকাতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া ভাষণের বর্ষপূর্তিতে শেখ হাসিনা এ বাণী দেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতের অবদান চিরস্মরণীয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের প্রায় এক কোটি মানুষকে ভারত আশ্রয় ও খাদ্যসহ সব ধরণের সহায়তা দিয়েছে। আবার হাজার হাজার ভারতীয় সৈন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। সে কারণে আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্ব রক্তের অক্ষরে লেখা। করোনা ভাইরাস জনিত বৈশ্বিক মহামারি মোকাবেলাতেও ভারতের পক্ষ থেকে বিশ লাখ ভ্যাকসিন উপহার সেই বন্ধুত্বেরই স্মারক।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলিকাতার বিখ্যাত ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালির ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে তথ্য মন্ত্রণালয় ভারত সরকারের সহায়তায় দিবসটি উদযাপনে সেই প্যারেড গ্রাউন্ডেই স্মরণসভা আয়োজন করেছে।

কলিকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের সহায়তায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানকে ‘মাইলফলক উদ্যোগ’ বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

ছাত্রজীবনে জাতির পিতার কলিকাতায় অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্ববহ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই শহরের ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমানে মৌলানা আজাদ কলেজ) থেকে বঙ্গবন্ধু উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময়েই তিনি জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সে সময় তিনি শুদ্ধ রাজনীতির চর্চা ও গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের অনন্য সম্মিলনে ধর্মনিরপেক্ষতা কীভাবে সমাজজীবনকে বদলে দিতে পারে, তা তিনি কলিকাতা শহরে ছাত্রাবস্থাতেই রপ্ত করেছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পশ্চিমবঙ্গেই প্রায় ৭২ লাখ বাংলাদেশি আশ্রয় নিয়েছিলেন। তখন গোটা কলিকাতা হয়ে উঠেছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের মিলনমেলা। ভারত সরকারের সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুরাগী নেতারা কলিকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। সে সময় কলিকাতার কবি-সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীসহ সবাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বাঙালি জাতির পিতার প্রতি তাদের আগ্রহ ছিল সীমাহীন। শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে কলিকাতায় যাত্রা বিরতি করবেন, এমনটাই ভেবেছিল কলিকাতাবাসী। কিন্তু জাতির পিতা তার স্বপ্নের স্বাধীন দেশের মাটিতে আগে যেতে চেয়েছিলেন। তাই ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দিল্লী থেকে সরাসরি ঢাকা যাওয়ার পথে কলিকাতার দমদম বিমানবন্দরে বার্তা পাঠান যে, তিনি অতি শিগগিরই কলিকাতা আসবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরে জাতির পিতা ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তিনদিনের সফরে কলিকাতা যান। ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের জনসভায় শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর উপস্থিতিতে লাখ লাখ স্বতঃস্ফূর্ত পশ্চিমবঙ্গবাসীর সামনে ভাষণ দেন। সেদিন তিনি উত্তাল জনতার উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চিরদিন অটুট থাকবে’।

তার অগ্নিঝরা ভাষণে উপস্থিত জনতা আবেগপ্লুত হয়েছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য ভারতের জনগণ, সরকার, সশস্ত্রবাহিনী, বিশেষ করে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি বঙ্গবন্ধু গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও আসামের জনগণের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতার ঐতিহাসিক ভাষণের মাহেদ্রক্ষণে স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তার আত্মার শান্তি কামনা করেন। সে সাথে তিনি গভীর কৃতজ্ঞাভরে স্মরণ করেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের জনগণের একাত্মতা ও আত্মত্যাগ।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর প্রথম কলিকাতা সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় স্মরণসভার আয়োজন করেছে। আগামীকাল (শনিবার) কলিকাতায় প্যারেড গ্রাউন্ডে সেই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।

পিএম/এসকেএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *