এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ১৫ জুন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

নিউজ ডেস্ক: ডেঙ্গি জ্বরের বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে আগামী ১৫ জুন থেকে ৪ মাসব্যাপী ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এমনটাই জানিয়েছেন ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এছাড়া ১৫ জুলাই থেকে ৩ মাসব্যাপী কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে ঢাকাবাসীকে ডেঙ্গি রোগের প্রকোপ থেকে সুরক্ষা দিতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনদের কাছে দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।

মঙ্গলবার নগর ভবনের মেয়র হানিফ মিলনায়তনে ডিএসসিসি এলাকায় ‘এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গি ও চিকনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধ’ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র বলেন, ঢাকা শহরে গণপূর্ত অধিদপ্তর, রেলওয়ে, ওয়াসা, পুলিশ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অধিদপ্তর ও বোর্ড ইত্যাদি অনেক সংস্থার অনেক আবাসন ও স্থাপনা রয়েছে। এছাড়াও এখানে রিহ্যাবের প্রতিনিধি এসেছেন। আপনারা নিশ্চয়ই ওয়াকিবহাল আছেন যে, নির্মাণাধীন প্রায় শতভাগ ভবনে আমরা মশার লার্ভা পাই। বিশেষ করে চৌবাচ্চাসহ অন্যান্য যেসব অবকাঠামো করা হয়, সেখানে পানি জমে থাকে। আমরা চাই, সেসব নির্মাণাধীন ভবন ও স্থাপনায় যেন এডিসের প্রজননস্থল সৃষ্টি না হয়। সেজন্য আপনারা যথাযথভাবে তদারকি করবেন। আপনারা সেসব জায়গায় এডিস মশার প্রজননস্থল নির্মূল না করতে পারলে আমাদেরকে জানাবেন। আমরা তা নির্মূলের ব্যবস্থা নেবো। কিন্তু পরবর্তীতে সেসব স্থাপনার সুরক্ষা আপনাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গি থেকে ঢাকাবাসীকে সুরক্ষা দিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করি।

উৎস নিধনই সারাবিশ্বে স্বীকৃত ও কার্যকর পদ্ধতি, তার আলোকেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে উল্লেখ করেন ব্যারিস্টার শেখ তাপস। বলেন, এডিস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গি ও চিকনগুনিয়া রোগ হয়ে থাকে যা অনেক সময় প্রাণহানি ঘটায়। সেজন্য আমাদের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের বড় অংশই হলো এই ডেঙ্গি রোগ প্রতিরোধ করা, এডিস মশার বিস্তার রোধ করা। সেলক্ষ্যে যে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি তার অন্যতম হলো উৎস নিধন। এটি আমাদের সৃষ্ট কোনও কর্ম পদ্ধতি বা উদ্ভাবন নয়। সিডিসি কর্তৃক এডিস মশা নিধনে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও কার্যকর হাতিয়ার হলো উৎস নিধন। সারাবিশ্বে যে কর্ম পদ্ধতিতে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা হয় আমরা তা অনুসরণ করে তার পূর্ণ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে আরও বেশি জোর দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের যে নিয়মিত কর্মপরিকল্পনা আমরা সাজিয়েছি তার মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও বেশি নজর দিতে চাই। বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণগুলোতে আরও বেশি নজর দিতে চাই। সেজন্য শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও আজকের সভায় আমন্ত্রণ করেছি যাতে করে তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও সভায় রেলওয়ের ঢাকা ডিভিশনাল মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রিপন দাস, রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট সোহেল রানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ডক্টর মোহাম্মদ হাসান ফারুক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নিউটন হাওলাদার এডিস নিয়ন্ত্রণে তাদের নিজ নিজ সংস্থার গৃহিত কার্যক্রম ও মতামত তুলে ধরেন।

মেয়র তাপস/এসকেএম

আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com

আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD

https://www.youtube.com/channel/UCC2oLwZJYHIEygcbPX3OsWQ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *