আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন এনেছে কানাডা। এতে করে বিপাকে পড়তে পারে অস্থায়ীভাবে বসবাস করা অভিবাসীরা। দেশটিতে বসবাসের অনুমতি-সংক্রান্ত যে বিশাল কর্মসূচি রয়েছে, চলতি বছর তাতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে হাজারো অভিবাসী আইনি ঝামেলায় পড়ে গেছে।
কানাডায় স্থায়ী হওয়ার একটি মাধ্যম ছিল শিক্ষার্থী হিসেবে এসে গ্র্যাজুয়েশনের পর কাজ খুঁজে নেয়া। অন্য একটি মাধ্যম হলো চাকরি নিয়ে দেশটিতে আসা। এই দুই মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি অভিবাসী কানাডায় এসেছেন এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তারা স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি পেয়েছেন। আর সবশেষ মাধ্যমটি হলো আশ্রয়প্রার্থী হয়ে দেশটিতে থাকা।
করোনাভাইরাস মহামারির পর কানাডায় শ্রমিকসংকটের কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ অভিবাসীদের অস্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকার অনুমতি দেয়। দেশটিতে যে ৩০ লাখ মানুষের কোনও না কোনও ধরনের অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি আছে, তাদের ২২ লাখই এসেছেন গত দুই বছরে। কানাডার জনসংখ্যা ৪ কোটি ১৩ লাখ। এর ৬ দশমিক ৮ শতাংশই অস্থায়ী বসবাসকারী, যে হার ২০২২ সালে ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
কানাডায় এখন যথেষ্ট কর্মসংস্থান হচ্ছে না। দেশটিতে বেকারত্বের হার ৬ শতাংশ। এ হার কমাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। আর অস্থায়ী ভিত্তিতে যারা বসবাস করছেন, তাদের মধ্যে বেকারত্বের হার আরও বেশি, ১৪ শতাংশ। বেশির ভাগ শহরে আবাসনের সংকট রয়েছে। আর স্বাস্থ্যসুবিধাও অনেক প্রদেশে চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
এ কারণে চলতি বছরের শুরুতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী মার্ক মিলার। এর একটি হলো শিক্ষার্থী ভিসার সংখ্যা কমিয়ে আনা। আরেকটি পদক্ষেপ হচ্ছে একটি কোম্পানি সর্বোচ্চ কতজন অস্থায়ী বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ করতে পারবে, তা নির্ধারণ করে দেয়া। এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্যই হলো অভিবাসীর সংখ্যা কমিয়ে আনা।
সরকারি এসব পদক্ষেপের ফলে যেসব অস্থায়ী শ্রমিকের কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে বা শেষ হতে চলেছে, তাদের সেই অনুমতির নবায়ন নাও হতে পারে। এরাই সবাই অস্থায়ীভাবে কানাডায় বাস করছেন।
অভিবাসনে বিধিনিষেধ আরোপ করে আগামী মাসে সরকার আরও কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে।
কানাডা/এএমএম
আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD
















Leave a Reply