নিউজ ডেস্ক, শেরপুর: শেরপুর জেলায় চাষ হচ্ছে ‘ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই’ বা ‘প্যারেট পোকা’ খ্যাত এক প্রজাতির মাছি। এটি মাছ ও মুরগীর উৎকৃষ্ট মানের প্রাকৃতিক খাবার।
শেরপুরের নকলার নারায়ণখোলার সফিকুর ও জেসমিন দম্পতি ইউটিউব দেখে প্রথববারের মত প্যারেট পোকা চাষ শুরু করেন। এই প্রজাতির মাছি চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন তারা। মাছ ও মুরগির খাদ্য সংকট দূর করতে এটি ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন। তাদের দেখাদেখি অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন এই প্রজাতির মাছি চাষ করতে।
প্যারেট পোকার খামারে কাজ করছেন শফিক। তার স্ত্রী তাদের পালিত মুরগিকে খাওয়াচ্ছেন প্যারেট পোকা নামের এ মাছি। শেরপুরে এ পোকা আর কোথাও দেখা যায়নি এর আগে। আর এসব দেখতে ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয়রা।
‘ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই‘ থেকে প্যারোট পোকা উৎপন্ন করতে দরকার মশারি নেট, কয়েকটি পাতিল ও কয়েকটি কাঠের টুকরো।
উদ্যোক্তা শফিকুর রহমান বলেন, ২০২১ সালের শেষ দিকে গাইবান্ধা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা খরচ করে ১ কেজি মাছির লার্ভা কেনার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করি। ৬/৭ মাসেই আমাদের খামারে ২ হাজার ৭০০ কেজি লার্ভা উৎপাদন হয়। আমরা দুইমাস থেকে পারিবারিক সমস্যার কারণে একটু সময় কম দেয়ায় উৎপাদন কমেছে। এখন আবার সময় দেয়া শুরু করেছি। আশা করি উৎপাদন আগের মত হবে। অল্প খরচে স্বল্প জায়গায় এই মাছি চাষাবাদ করে আমরা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছি।
শফিকুর বলেন, আমরা যে খাওয়া ফেলে দেই। ওই উচ্ছিষ্ট খাবারই এই মাছির প্রধান খাদ্য। বিভিন্ন মানুষের বাসা–বাড়ি/বাজার থেকে ফেলে দেয়া খাবার (মুরগির বিষ্ঠা, পঁচা সবজি ও মাছের আঁশ) সংগ্রহ করে খামারে নিয়ে আসি। এগুলো মাছিদের খেতে দেই। এতে যেমন পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা যায় তেমন একদিকে তাদের খাদ্যের যোগান হয়। এই মাছি কোন জীবাণুবহন না করায় মাছ–মুরগির আদর্শ খাদ্য।
শফিকুলের ইচ্ছা– প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষাবাদ করবে। পাশাপাশি মানুষের মাঝে উপকারী এই মাছি চাষাবাদ পদ্ধতি পৌঁছে দেয়া।
শফিকুরের স্ত্রী জেসমিন আক্তার জানান, খামারে তারা একসাথে কাজ করেন। লার্ভা খেয়ে মুরগি সহজেই বড় ও স্বাস্থ্যবান হচ্ছে এবং ডিমও দিচ্ছে বেশি। এখনও মাছি বিক্রি শুরু করিনি। আপাতত আমরা আমাদের খামারের মুরগিদের খাওয়াচ্ছি। এখন বড় আকারে বিক্রির জন্য চাষ শুরু করেছি।
আশপাশের অনেকেই আগ্রহী হয়ে দেখতে আসছে এই মাছির খামার। অনেকেই এটি ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
নকলা থেকে আসা নাহিদুর রহমান রিজন বলেন, এই পোকা বাস্তবে এই প্রথম দেখলাম। ইউটিউবে আমি এর আগেও দেখছি। এখন বড় খামার করার কাজ শুরু করেছি।
আরও পড়ুন: সেতুধসে মৃত্যু ১২০ জনের, চলছে উদ্ধার তৎপরতা
শেরপুর জেলা প্রাণী সম্পাদ কর্মকর্তা ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শেরপুরে এই প্রথম প্যারেট পোকার চাষ হয়েছে। বাজারে প্রচলিত খাদ্যের চেয়ে এই খাদ্য অনেক বেশি মানসম্পন্ন হওয়ায় মাছ ও মুরগির জন্য অনেক উপকারী। অল্প খরচে ছোট জায়গায় এটি চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব। তাদের এ কাজে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।
* বাসস ফিচার
খামার/এএমএম/কিউটি















Leave a Reply