আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমণ দিবসে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বজুড়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, জাতির পিতার পথ অনুসরণ করে যে কোন অবস্থাতে যে কোন ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলা করতে আমরা পারবো এবং বাঙালি পারে। বাংলাদেশের মানুষ যে পারে তা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। জাতির পিতা আমাদের যে পথ দেখিয়ে গেছেন সে পথেই বাংলাদেশের মানুষকে আমরা দুর্যোগ থেকে মুক্ত করবো।

মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯কে আরেকটি দুর্যোগ আখ্যা দিয়ে করে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নি সন্ত্রাসের দিকে ইঙ্গিত করেন। বলেন, বর্তমান সরকারকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি অনেক সময় মানুষের তৈরি দুর্যোগও মোকাবেলা করতে হয়।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন বিএনপি-জামায়াতের সেই অগ্নি সন্ত্রাস। জীবন্ত মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেটাও কিন্তু আমরা মোকাবেলা করেছি।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে জিজিটাল পদ্ধতিতে বিনামূল্যে ১৭ হাজার ৫টি দুর্যোগ সহনীয় গৃহ প্রদান এবং ১৮ হাজার ৫০৫ জন নারী কর্মী সম্বলিত ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)’-এর নতুন একটি মহিলা ইউনিট উদ্বোধন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অগ্নিকাণ্ড হবে। সে সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে আমাদের বাঁচতে হবে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন করা এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় স্থাপনা নির্মাণের সময় জলাধার সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা রাস্তাঘাট যা কিছু তৈরি করি না কেন সবাইকে অনুরোধ করবো, আমাদের জলাধার, নদীনালা, খালবিল-এগুলো যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার এনামুর রহমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৪২ জন করে নারী ও পুরুষের মাঝে পদক ও বিতরণ করেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার এনামুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মোহসীন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ সহনীয় ঘরের উপকারভোগীদের পক্ষে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার বেদেনি নুরুন্নাহার এবং গাইবান্দার রিয়াজুল হক এবং মহিলা সিপিপি কাশফিয়া তালুকদার নিজেদের অনুভূতি জানান।

পিএম/টিটি/আরএম