পিউময় ফেসবুক

টক অব দ্যা কান্ট্রি শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউকে পুলিশ হেফাজতে দিয়েছে র‌্যাব-১। নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের এই নেত্রী এখন ফেসবুকে আলোচনার কেন্দ্রে। তবে তার গ্রেফতার ও অপকর্মের কথা জেনে ইতোমধ্যেই তাকে যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফেসবুকের নিউজ ফিড সয়লাব হয়ে গেছে শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউকে নিয়ে। রহস্যময়ী এই নারীকে নিয়ে যেমন চলছে হাসি-ঠাট্টা, তেমনি যাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে পাপিয়া পিউ হয়ে উঠেছে তাদের নাম সামনে আনারও দাবি উঠেছে সেসব পোস্টে।

শনিবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে আটক হওয়া পিউর সম্পর্কে একে একে বেরিয়ে আসছে নানা তথ্য। সে সব তথ্য নিয়ে ফেসবুকে চলছে সরেস আলোচনা। ফেসবুকে ইতোমধ্যে তার নামে নতুন অ্যাকাউন্টও খোলা হয়েছে আজ (রোববার) বিকেলে।

ফেসবুক নিউজ ফিডে পাপিয়ার জীবনাচার ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। যুব মহিলা লীগের নরসিংদী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের সাথে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের ছবি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

২৮ বছর বয়েসী পিউর বিলাসী জীবন যাপনের কথা নিয়েও ট্রল হচ্ছে। পিউ প্রতিদিন শুধু মদের বিলই দিতেন অন্তত আড়াই লাখ টাকা। পিউ নিশ্চয়ই একাই এই আড়াই লাখ টাকার মদ পান করতো না। কারা করতো? সে প্রশ্নও এখন সবার মুখে মুখে।

রাজধানী ঢাকায় ও নরসিংদীতে একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট থাকার পরও রাত কাটিয়েছেন বিলাসবহুল হোটেলে। রুম ভাড়া বাবদ গত তিন মাসে শুধু ওয়েস্টিন হোটেলেই বিল দিয়েছেন এক কোটি ৩০ লাখ টাকা। তার টাকার উৎস কি?

আয়কর নথির হিসাব অনুযায়ী পিউর বাৎসরিক আয় ১৯ লাখ টাকা। রাজধানীতে তার গাড়ির শো-রুম আছে। এফডিসি’র পাশে সেই শো-রুম। নাম ‘কার এক্সচেঞ্জ’। এছাড়া নরসিংদীতে আছে ‘কেএমসি কার ওয়াশ অ্যান্ড অটো সলিউশন’ নামে গাড়ি সার্ভিসিং সেন্টার।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, পিউ বিলাসবহুল হোটেলে রাত কাটাতেন। সেখানে অন্য মেয়েদেরও রাখতেন। এই মেয়েরা মাসিক ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে অনৈতিক কাজ করতো। পিউর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এ পর্যন্ত সাতজন মেয়েকে উদ্ধার করা হয়েছে। অনৈতিক কাজের জন্য এরা সবাই বেতনভূক ছিল। সমাজ সেবার নামে নরসিংদী এলাকা থেকে এসব নারীদের নিজের জালে ফাঁসিয়েছে পিউ।

র‌্যাব জানায়, গাড়ির শো-রুম আর সার্ভিস সেন্টারের আড়ালে চলতো অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের ব্যবসা। চাঁদাবাজি ছিল আয়ের আরকটি উৎস।

শামীম নূর পাপিয়া ওরফে পিউ শনিবার রাতে গোপনে দেশত্যাগের চেষ্টা করছিল। গোয়েন্দা তথ্যেরভিত্তিতে র‌্যাব তাকে আটক করে। এসময় তার সাথে ছিল ৩৮ বছর বয়েসি স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন। এই সুমন নরসিংদীতে গড়ে তুলেছে নিজের সন্ত্রাসী বাহিনী। র‌্যাব সুমন ছাড়াও আরও আটক করেছে  পিউর সহকারি সাবিখ্যার খন্দকার ও শেখ তায়্যিবাকে। এই দুইজন পিউর সব অপকর্মের সঙ্গী।

আটকের সময় পিউ ও তার সঙ্গীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় সাতটি পাসপোর্ট, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার দেশি জাল নোট, ১১ হাজার ৯১ মার্কিন ডলার ও ৭টি সেলফোন।

জিজ্ঞাসাবাদে পিউ স্বীকার করেছে হোটেলে আসা নামীদামি খদ্দেরদের কাছে মেয়েদের পাঠাতো। গোপনে মেয়েদের সাথে খদ্দেরের অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হতো। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হতো।

উদ্ধার হওয়া মেয়েরাও জানিয়েছে,তাদের অশ্লীল ছবি হাইপ্রোফাইল লোকদের ফোনে পাঠানো হতো। এসব অশ্লীল ছবি দেখে হাইপ্রোফাইল লোকজন পিউর সাথে যোগাযোগ করতো। তারা হোটেলে এলে তাদের জিম্মি করা হতো। সম্মান রক্ষার্থে তারা পিউর দাবি অনুযায়ী মোটা অংকের টাকা দিয়ে ছাড়া পেত।

ইউটিউব থেকে নেয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *