বনানীতে চিরনিদ্রায় ব্যারিস্টার রফিক

0
165

ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২০ (নিউজ ডেস্ক): বরেণ্য আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় আদ্-দ্বীন হাসপাতালে, বেলা সাড়ে দশটায়।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক মারা যান। রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালের ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার নাহিদ ইয়াসমিন তার মৃত্যুর সংবাদ সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

২১ অক্টোবর ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে আইসিইউ-তে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। তিনি হাসপাতালের ডাক্তার রিচমন্ড রোল্যান্ড গোমেজের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। বার্ধক্যজনিত ইউরিন ইনফেকশন ও রক্ত শূন্যতার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

ব্যারিস্টার রফিক-উল- হকের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। শোকবার্তায় প্রধান বিচারপতি বলেন, রফিক-উল হক একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিলেন। আইনের শাসন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অনস্বীকার্য।

অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল বিশিষ্ট আইনজীবী রফিক-উল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

আইন পেশায় ৬০ বছর পার করা এই আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। দেশের আলোচিত অনেক মামলার আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক।

উচ্চ আদালতকে সহযোগিতা করতে অনেকবার হয়েছেন অ্যামিকাস কিউরি।

ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত থাকার প্রেক্ষাপটে ইন্দিরা গান্ধী, নেহেরু ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সান্নিধ্য পেয়েছেন এই আইনজীবী। হিন্দু আইন নিয়ে বার-অ্যাট-ল করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু আইনের ক্লাস নিয়েছেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। এছাড়া বিভিন্ন সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

দেশের প্রথিতযশা এই আইনজীবী নিজের উপার্জিত অর্থের একটা বড় অংশই ব্যয় করেছেন সমাজ সেবামূলক কর্মকান্ডে। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠা করেছেন বেশ কয়েকটি হাসপাতাল, এতিমখানা, মসজিদ ও মেডিক্যাল কলেজ। এছাড়া যেখানে সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মানবতার সেবায়।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালে কোলকাতার সুবর্ণপুর গ্রামে। তার বাবা মুমিন-উল হক পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। আর মা নূরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিণী। কলিকাতার সুবর্ণপুরেই রফিক-উল হকের শৈশব ও কৈশোর কাটে।

১৯৫১ সালে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। এরপর ১৯৫৫ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও ১৯৫৭ সালে দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এই সময়ে তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে পর পর দুবার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৮ সালে এলএলবি পাস করে পরবর্তীকালে আইনজীবী হিসেবে কলিকাতা হাইকোর্টে পেশাজীবন শুরু করেন।

১৯৬২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে বার-অ্যাট-ল করে ঢাকায় আসেন। ১৯৬৫ সালে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এবং ১৯৭৩ সালে আপিল বিভাগে সিনিয়র আইনজীবী হন রফিক-উল হক। তার একমাত্র ছেলে ফাহিমুল হক একজন ব্যারিস্টার। এর আগে ২০১১ সালে রফিক-উল হকের চিকিৎসক স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

২০০৭-২০০৮ ইং সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পক্ষে মামলা পরিচালনা করে বিশেষ প্রশংসিত হন তিনি।

শোক/এএমএম/কিউটি