অভিভাবকদের মানববন্ধন

করোনাকালে ৫০ শতাংশ টিউশন ফি, গত চার মাসের ফি বকেয়া থাকা শিক্ষার্থীদের ক্লাস অব্যাহত রাখাসহ বিভিন্ন দাবিতে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অভিভাবকরা মানববন্ধন করেছেন। এ সময় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের কার্যক্রম তদারকিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মত সায়ত্ত্বশাসিত সংস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

শনিবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মাস্টারমাইন্ড স্কুলের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্যারেন্টস ফোরাম অব মাস্টারমাইন্ড স্কুল এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে সংহতি জানায় বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্যারেন্টস ফোরাম। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের অভিভাবকরাও দাবির সাথে একত্মতা প্রকাশ করে কর্মসূচিতে অংশ নেন।

অভিভাবকরা করোনাকালে ৫০ শতাংশ টিউশন ফি প্রদান, প্রতিবছর টিউশন ফি বৃদ্ধি করা, মানসম্মত অনলাইন ক্লাস নিশ্চিত করা এবং করোনার কারণে স্কুলের বিভিন্ন ফি সময় মত পরিশোধ করতে না পারলে শিক্ষার্থীর ক্লাস বা পরীক্ষা বন্ধ না করা-সহ ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন।

এ সময় বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্যারেন্টস ফোরামের আহ্বায়ক একেএম আশরাফুল হক ঘোষণা দেন, দাবি মানা না হলে ১৫ জুলাই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তারা বলেন, এখন আর উচ্চবিত্তের সন্তানরাই শুধু ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ছে না। বরং অধিকাংশ শিক্ষার্থীই উচ্চ মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসছে। করোনার কারণে ব্যবসায়ী অভিভাবকদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে বা কোনভাবে টিকে আছে। আবার চাকরিজীবীদের অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন বা বেতন কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বাণিজ্যিক আচরণ থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

তারা বলেন, বেতন দিতে কেউ অস্বীকার করছে না। কিন্তু এই বৈশ্বিক মহামারির সময়টুকুতে ফি কমানোর দাবি অযৌক্তিক নয়। অভিভাবকরা যদি ফি দেয়ার সামর্থ্য না রাখেন তবে তা কিভাবে পরিশোধ করবেন প্রশ্ন রেখে বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দরকার, একইভাবে শিক্ষার্থী ছাড়াও স্কুলের অস্তিত্ব থাকবে না। ইতোমধ্যেই অনেকগুলো কিন্ডারগার্টেনসহ বেশ কিছু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম প্যারেন্ট ফোরামের সভাপতি একেএম আশরাফুল হক। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব আজম সালাহউদ্দিন, মাস্টারমাইন্ড স্কুলের অভিভাবক মুতাসিম বিল্লাহ, মুমতাহীনা রীতু, স্কলাশটিকা স্কুলের অভিভাবক মোহাম্মদ রানা, হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অভিভাবক মঞ্জুর সাকলাইন, হীড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অভিভাবক রহমান মুস্তাফিজসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের অভিভাবকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *