অ্যানগেজমেন্ট রিং উপহার দিলেন পরীমনি

রহমান মুস্তাফিজের মন্তব্য প্রতিবেদন : চিত্রনায়িকা পরীমনি আর তাক লাগানো ঘটনা যেন হাত ধরাধরি করে চলে। কখনও তিনি সংবাদ হন, কখনও আবার সংবাদের উৎস হয়ে ওঠেন। সবশেষ অসাধারণ ঘটনাটি ঘটালেন “মা” চলচ্চিত্রের ইউনিটে।

মা সিনেমার প্রযোজক প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ুয়া, নায়িকা পরীমনি ও দুই মাস বয়েসী শিশুশিল্পী

বোট ক্লাবের ঘটনায় হয়েছিলেন টক অব দ্য কান্ট্রি। তারপর গ্রেফতার, কারাবরণ ও আইনী লড়াই… পিছু হটেননি কোন পর্যায়েই।

কারাগার থেকে বের হওয়ার কয়েকদিন পর জমকালো জন্মদিন করলেন কেবিন ক্রু থিমে। তার কনফিডেন্স আলোড়িত করলো অনেককে। সমালোচকরাও থমকালেন। তারপর?

তারপর ছোট্ট একটা বিরতি নিয়ে গত জানুয়ারিতে আবার দাঁড়ালেন ক্যামেরার সামনে। শুরুটা গিয়াসউদ্দিন সেলিমের চলচ্চিত্রে। তারপর…

তারপর দারুণ এক সাহসী সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। “মা” চলচ্চিত্রে মায়ের ভূমিকায় চুক্তিবদ্ধ হলেন। প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ুয়া প্রযোজিত ও নাট্যনির্মাতা অরণ্য আনোয়ার পরিচালিত প্রথম সিনেমা “মা”।

“মা” চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর আচমকাই বিয়ের পিড়িতে বসলেন পরীমনি। এরপর জানালেন, তিনি মা হচ্ছেন। অনেকের ধারণা হয়, মা সিনেমার নাম ভূমিকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বলে প্রচারণার জন্য এমন সংবাদ শিরোনাম। পরে জানা গেল, বাস্তবজীবনেই মা হতে যাচ্ছেন পরীমনি।

অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তিন মাস বিরতি নিয়ে ৪ মার্চ আবার এলেন ক্যামেরার সামনে। “মা” সিনেমার আউটডোর লোকেশনে কাটালেন এক সপ্তাহ। ফেরার দিন জন্ম দিলেন নতুন ঘটনা। পরীমনির ঘটানো কাণ্ডটা শোনা যাক পরিচালক অরন্য আনোয়ারের জবানিতেই:

“দুপুর তিনটার দিকে পরীমনির শ্যুটিং প্যাকাপ করে আমি টিমের সাথে খেতে বসলাম। এসময় কে একজন বললো, পরী আপু আপনাকে ডাকছেন। সেটের মধ্যে একটা রুমে পরী তখন রাজের সাথে ঢাকায় ফিরে যাবার আয়োজনে ব্যস্ত। আমাকে দেখে বললো, “ভাইয়া- আমার সন্তানের চরিত্রে অভিনয় করা শিশুটাকে একটা কোন ভালো গিফট করা উচিত”। ওর কথা শেষ হবার আগেই আমি উত্তর দিলাম, ওটা নিয়ে তোমার চিন্তা করতে হবে না। আমি ব্যবস্থা করছি–। বলেই চলে আসলাম। আমার মাথায় তখন খাওয়া দাওয়া শেষে ডে লাইটে আরেকটা সিকোয়েন্স শেষ করার চিন্তা। আর আমি পেশাদার মানুষ, আমার প্রোডাকশন আগেই শিশুটির সম্মানী বাবদ একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের খাম ওর মায়ের হাতে তুলে দিয়েছে। সেটাকেই আমি যথেষ্ট বলে মনে করি।

খাওয়া শেষে উঠোনে সেই দৃশ্যের শ্যুটিং আয়োজন করছি। এসময় আবার ঘরের ভেতর থেকে পরীর ডাক আসলো। আমি ব্যস্ত। তবুও ভাবলাম ওকে বিদায়টা দিয়ে আসি। ঘরে ঢুকতেই দেখলাম রাজ আর পরীর হাতে সোনার রিং-এর ছোট একটা বক্স। পাশে বসা সেই শিশুটির মা। পরী বললো, ভাইয়া আমার দুটো এনগেজমেন্ট রিং একটা হচ্ছে এটা। আমি বাবুটাকে আপনার হাত দিয়ে এই রিংটা উপহার দিতে চাই। আমি হতভম্ব। কি বলে এই মেয়ে?

পরী আবার বললো, গত ক’টা দিন ওর সাথে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে ওর প্রতি আমার যে মায়া জমে গেছে।

আমি আবেগে আপ্লুত হলাম। শ্রদ্ধায় নত হলাম পরীর কাছে। বললাম, “তুমি সত্যিই একটা পাগল- ওকে ! আসো তাহলে আংটি দেয়ার ছবিটা আমরা তুলি একসাথে।” রাজ বললো, “নীরব ভালোবাসাটা নীরবই থাকুক ভাই। ছবি তোলার দরকার নাই।”

আমরা ছবি তুললাম না। কিন্তু পরীর এ আবেগের কথা আমি মানুষকে জানাবো না- এতোটা চাপা স্বভাবের মানুষ যে আমি নই।

দুই মাস বয়সী শিশুটির বাবা একজন অটো চালক। মা গৃহিনী।

স্যালুট পরীমনি। তোমাকে স্যালুট – শ্রদ্ধা – ভালোবাসা।”

পরীমনি তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র দিয়েই আলোচনায় এসেছিলেন। সে ধারা এখনও অব্যাহত আছে। গত তিন দশক ধরে আমি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের সাথে যুক্ত আছি। সেই অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, সেদিন খুব দূরে নয় যেদিন পরীমনি ভীনদেশী চলচ্চিত্রে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। আর এক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ুয়া প্রযোজিত ও অরণ্য আনোয়ার পরিচালিত “মা” চলচ্চিত্রটি। এই সিনেমাটি পরীমনিকে নিয়ে যাবে বিশ্ববাজারে।

শিশুর প্রতি পরীমনির ভালোবাসা আমাকে আপ্লুত করেছে। তার এবং তার অনাগত সন্তানের জন্য শুভ কামনা নিরন্তর। সফলতা কামনা করছি “মা” চলচ্চিত্রটিরও।

লেখক: রহমান মুস্তাফিজ; সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও নির্মাতা

আরও খবর পড়তে: http://www.artnewsbd.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *