ইউরোপ সেরা বায়ার্ন মিউনিখ

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে ৫০০তম গোলটিই নির্ধারণ করে দিল জয় পরাজয়। ফাইনালে ১-০ গোলের জয়ে শিরোপা ঘরে তুললো বুন্দেস লিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ। যোগ্যতর দল হিসেবেই তারা ফরাসি লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন (পিএসজি)-কে হারিয়ে ষষ্ঠ বারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ঘরে তুললো।

শিরোপা জয়ী বায়ার্ন মিউনিখ খেলোয়াড়দের উল্লাস

ম্যাচের ৫৯ মিনিটে গোলের দেখা পায় জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে গোল আদায় করে নেয় বায়ার্ন। কেংসলে কোম্যানের হেড পিএসজি’র গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। এটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ৫০০তম গোল হিসেবে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিল।

এর আগে ৫১ মিনিটে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। রেফারি দুই পক্ষেই হলুদ কার্ড দেখিয়ে শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।

৭১ মিনিটে এমবাপ্পে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডি-বক্সের ভিতর পড়ে গিয়ে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন। এর এক মিনিট পরেই নেইমারের শট বারের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই পরিকল্পিত আক্রমণ শানায়। তবে বায়ার্ন মিউনিখ মুহুর্মুহু আক্রমণ চালিয়ে পিএসজি’র রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে। অন্যদিকে পিএসজি’র অধিকাংশ আক্রমণ চেষ্টা ঠেকিয়ে দেন থিয়াগো।

৮০ মিনিটের সময় আক্রমণভাগে শক্তি যোগাতে মাঠ থেকে তুলে নেয়া হয় ডি মারিয়াকে। নিষ্প্রভ ডি মারিয়া একাধিক সুযোগ নষ্ট করায় কোচ তাকে তুলে নেন। ৮১ মিনিটের সময় নেইমার দেখেন হলুদ কার্ড।

৮২ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি কিক নেন কৌতিনহো। তার বাঁকানো শট পিএসজি’র গোল বারের সামান্য বাইরে দিয়ে বেরিয়ে গেলে বায়ার্ন আরেকটি গোল থেকে বঞ্চিত হয়।

৮৯ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলকিপারকে একা পেয়েও সাফল্য পাননি এমবাপ্পে। একইভাবে ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে শেষ সুযোগ নষ্ট করেন এই ফরাসী তারকা ফরোয়ার্ড।

প্রথমার্ধে কোন ইনজুরি টাইম না থাকলেও ঘটনাবহুল দ্বিতীয়ার্ধে দেয়া হয় অতিরিক্ত ৫ মিনিট। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে খেলায় সমতা আনার আরেকটি চেষ্টা ব্যর্থ হয় পিএসজি’র।

এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধ কেটেছে গোল শূণ্য ভাবে। তবে পিএসজি ২ বার ও বায়ার্ন মিউনিখ একবার গোলের সুযোগ নষ্ট করে। এছাড়া প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে বায়ার্নের জোর দাবি উপেক্ষা করেন রেফারি। ফলে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়নি জার্মানির সেরা দলটি।

খেলার ২৩ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ডি মারিয়া। পেনাল্টি বক্সের ভিতর থেকে বল গোলবারের অনেক উপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন ডি মারিয়া। এছাড়া একটি হাফ চান্স কাজে লাগাতে পারেননি নেইমার। বায়ার্ন গোলরক্ষক হফম্যান পরাস্ত হলেও তার পায়ে লেগে বল মাঠের বাইরে যায়। এমবাপ্পে ছিলেন নিষ্প্রভ। নেইমার ছিলেন কড়া মার্কিংয়ে। অন্যদিকে, বায়ার্ন মিউনিখের একটি দুর্দান্ত আক্রমণ নষ্ট হয় সাইড বারে লেগে।

খেলায় বায়ার্ন ও পিএসজি’র ৪ জন করে হলুদ কার্ড দেখেন। খেলায় বায়ার্নের বিরুদ্ধে ২২ বার ও পিএসজি’র বিপক্ষে ১৬ বার রেফারি ফাইলের বাঁশি বাজান। এছাড়া দুই দলই ৪টি করে কর্নার কিক আদায় করে নেয়।

খেলায় বায়ার্ন ৫১৫ বার ও পিএসজি ৩২২ বার বল পাস দেয়। এর মধ্যে বায়ার্নের পাস ৮৪ শতাংশই সঠিক থাকলেও পিএসজি ৭৪ শতাংশ বার ঠিক মত বল পাস দিতে সক্ষম হয়। বল দখলে রাখার হিসেবেও বায়ার্নের ছিল সুস্পষ্ট প্রাধান্য। তাদের দখলে বল ছিল ম্যাচের ৬২ শতাংশ সময়। বাকি ৩৮ শতাংশ সময় বল ছিল পিএসজি’র দখলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *