৩০ মার্চ ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): বাংলাদেশের গণমাধ্যম যে পরিমাণ স্বাধীনতা ভোগ করে, অনেক উন্নত দেশেও এ পরিমাণ স্বাধীনতা ভোগ করে না। এমনটাই বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ডক্টর হাছান মাহমুদ।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশের ৫০ বছরে গণমাধ্যমের অর্জন ও চ্যালেঞ্জ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে একটি ভুল সংবাদ পরিবেশনের কারণে ১৬৭ বছরের পুরোনো পত্রিকা ‘নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বন্ধ হয়ে যায়। বিবিসি’কে পৃথিবীর প্রথম সারির গণমাধ্যম হিসেবে ধরা হয়। সেখানে একজন এমপি’র বিরুদ্ধে অসত্য সংবাদ পরিবেশনের প্রেক্ষিতে মামলা হয়। সে জন্য বিবিসি’র প্রধান নির্বাহী থেকে শুরু করে পুরোও ‘টিম’কে পদত্যাগ করতে হয়েছে। কিন্তু অসত্য বা ভুল সংবাদ পরিবেশনের জন্য বাংলাদেশের কোনও সংবাদপত্র বন্ধ হয়নি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যে প্রতিনিয়ত ভুল সংবাদ পরিবেশনের জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমকে মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়। আমাদের দেশে অসত্য সংবাদ, ভুল সংবাদ পরিবেশিত হয় না এটি কেউ বলতে পারবে না। কিন্তু এ অসত্য বা ভুল সংবাদ পরিবেশনের কারণে কোনও সংবাদপত্র বন্ধ হয়েছে এমন ঘটনা ঘটেনি।
আমাদের দেশে কোনও একজনের বিরুদ্ধে ভুল সংবাদ পরিবেশন করা হলে প্রতিবাদটিও সমান গুরুত্বে ছাপা হওয়া আবশ্যক। টিভিতে কোনও অসত্য প্রতিবেদন হলে তার প্রতিবাদও সমগুরুত্বের সাথে প্রচার হওয়ার বিষয়ে যত্নবান হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন ডক্টর হাছান মাহমুদ।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ আইন সারাদেশের সবার ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য। এটি কোনও বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নয়। কোনও সাংবাদিকের চরিত্রহরণ করে বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখা হলে তিনি কোন আইনের বলে প্রতিকার পাবেন?’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বিশ্ব যখন ছিল না তখন ডিজিটাল আইনের প্রয়োজনও ছিল না। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন নিয়ে এতো কথা হচ্ছে, ডিজিটাল আইনের মতো ভারতে ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যাক্ট এবং সারাবিশ্বেই এ বিষয়ে আইন রয়েছে। তবে আইনের যেন অপপ্রয়োগ না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখা আবশ্যক। কেউ যাতে অহেতুক নিগৃহীত না হয়।
দেশে গণমাধ্যমের অর্জন নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৫০ বছরের প্রান্তে আজ গণমাধ্যমের অনেক বিকাশ ঘটেছে। গত ১২ বছরের কথা আমি বলতে চাই। ১২ বছর আগে বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ছিল সাড়ে ৪শ’। এখন দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা সাড়ে ১২শ’। ১২ বছর আগে টেলিভিশনের সংখ্যা ছিল ১০টি। প্রাইভেট টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার প্রথমবার দায়িত্ব গ্রহণের পর। এখন সম্প্রচারে আছে ৩৪টি টিভি চ্যানেল। আরও আসার অপেক্ষায় আছে ১১টি। অনলাইন গণমাধ্যম ১২ বছর আগে হাতে গোনা কয়েকটি ছিল। এখন কয়েকশ’, কিংবা কতো হাজার সেটি দেখার বিষয়। তবে আমাদের কাছে ৫ হাজার আবেদন জমা পড়েছে নিবন্ধনের জন্য। আমরা ইতোমধ্যেই কিছু নিবন্ধন দিয়েছি, আরও দেয়া হবে। প্রক্রিয়া চলছে।
ডিআরইউ সভাপতি মুরসালিন নোমানীর সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, শওকত মাহমুদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা, ডিআরইউ’র স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এবং সদস্য সচিব ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাইদুর রহমান।
সভাশেষে সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত ‘সিটি ব্যাংক-ডিআরইউ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট’ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী।
তথ্যমন্ত্রী/এসকেএম
















Leave a Reply