নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, ঢাকা জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি কমরেড সুনীল রায়ের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পার্টির ৪৩নং ওয়ার্ড শাখার উদ্যোগে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পার্টি নেতা কমরেড রতন কুমার দাসের সভাপতিত্বে ও শাখা সম্পাদক কমরেড ধনেশ চন্দ্র শীলের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক কমরেড জাহিদ হোসেন খান, সূত্রাপুর থানা কমিটির সভাপতি বিকাশ সাহা, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বী খান, মীর জামাল হোসেন, প্রিতম ফকিরসহ অন্যরা।
নেতারা বলেন, সোভিয়েত বিপর্যয়ের পর ১৯৯৩ সালে বিলোপবাদীরা পার্টিকে চরম সংকটে ফেলে দেয়। ডাকসাইটে নেতারা যখন বিভ্রান্ত, তখন সুনীলদা ইস্পাতদৃঢ়তায় পার্টির লাল পতাকা উড্ডীন রেখে কমিউনিস্ট পার্টিকে সংগঠিত করেছেন। তিনি পার্টির কাজ করতে যেয়ে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হয়েছেন, আত্মগোপনে গিয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু পার্টির কাজ, শ্রমিক-মেহনতি মানুষের সংগ্রাম থামিয়ে দেননি। ভাঙ্গনের পর আবার পার্টিকে গতিশীল করার অন্যতম মূল সংগঠক ছিলেন কমরেড সুনীল রায়। আমৃত্যু তিনি পার্টির জন্য নিবেদিত প্রাণ ছিলেন।
নেতৃবৃন্দ স্মৃতিচারণ করে বলেন, সুনীল রায় ১৯২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার শ্যামগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। নবীনগরের এমকে মাধ্যমিক স্কুলে পড়া অবস্থায় তের বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলে চিত্তরঞ্জন কটন মিলে তাঁত শ্রমিক হিসেবে যোগদান করেন। ওই সময় ঐ অঞ্চলে শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে শ্রমিক আন্দোলন চলছিল। তিনি সেই আন্দোলনে যোগ দেন এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যে শ্রমিকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৩৮ সালে তিনি কমরেড নলিনী ভট্টাচার্যের মাধ্যমে কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত হন। সুনীল রায় নিজের জীবন থেকে সাম্যবাদের দীক্ষা নিয়েছিলেন। পড়ালেখা না করতে পেরে অল্প বয়সে শ্রমিকের কাজ করতে যেয়ে তিনি শ্রমিক শোষণ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলেন। আর ওই সময়ের কমিউনিস্টদের আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থেকে তিনি মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছিলেন। তাই তো আমৃত্যু কমিউনিস্ট জীবনযাপন করেছেন।
সুনীল রায় সূত্রাপুরের রেবতি মোহন দাশ লেনে বাস করবেন। পাকিস্তানী আমলে ঢাকা শহরে পার্টির যতগুলো গোপন আস্তানা ছিল এটি তার মধ্যে একটি। অকৃতদার কমরেড সুনীল রায় শুধু স্বল্পভাষী ছিলেন না, ছিলেন মিত্যবায়ী, সাদাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত। সততা-আদর্শ ও ত্যাগের এক মূর্তমান প্রতীক। শান্ত স্বভাবের হলেও তিনি আর্দশের প্রশ্নে ছিলেন অবিচল। নিজের প্রতি খুবই উদাসীন ছিলেন তিনি। অসুস্থতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তিনি প্রিয় এলাকা নারায়ণগঞ্জে থাকতেন সেখানকার পার্টি কমরেডদের তত্ত্বাবধানে। ২০০১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ৮০ বছর বয়সে কমরেড সুনীল রায়ের জীবনাসান ঘটে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কমরেড সুনীল রায়ের আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে শ্রমিক-কৃষকের মাঝে কাজ করা আজ সবচেয়ে জরুরি। তার স্বপ্ন ছিল মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার। সেই সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আজকে আবার শপথ নিয়ে নব উদ্যোমে ঝাপিয়ে পড়া কমিউনিস্ট-বামপন্থীদের দায়িত্ব। কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল গাওয়ার মধ্যে দিয়ে স্মরণ সভা শেষ হয়।
সিপিবি/এএমএম
আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD















