৮ জুন ২০২২ (নিউজ ডেস্ক): চলছে প্রবল খরতাপের গ্রীষ্মকাল। অতিরিক্ত গরমে আমরা সাধারণত ফ্যান কিংবা এসি ছেড়ে দেই। এতে বাড়ে বিদ্যুৎ বিল। এই ঝক্কি এড়াতেই ভাবি যদি সাশ্রয়ী মূল্যে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে ঘর ঠাণ্ডা রাখতে পারতাম কতোই না ভালো হতো। কিন্তু কীভাবে? এর জন্য সমাধান হলো ঘরে গাছ লাগানো। বিভিন্ন আধুনিক গবেষণা বলছে, এসব গাছ যে শুধু প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে ঘরকে ঠাণ্ডা রাখে তা-ই নয়, ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা যোগ করতেও সহায়তা করে।
গ্রীষ্মের সময় কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট আছে যা আপনার ঘরকে শীতল রাখবে।
অ্যালোভেরা
অ্যালোভেরা যে কেবল রূপচর্চায় উপকারী তা কিন্তু নয়। এর পাতার ভিতরে থাকে জলীয় ওষধি উপাদান, যা ত্বকে লাগালে নিমেষে ক্ষত বা পোড়া জুড়িয়ে যায়। একই সাথে ঘরের তাপমাত্রা কমাতেও কাজে আসে গাছটি। বাড়িতে অ্যালোভেরা থাকলে ঘর কেবল শীতলই থাকবে তা নয়। এটি বাতাসের তাপমাত্রা হ্রাস করে এবং ঘরের পরিবেশ গরম হওয়া ঠেকিয়ে দেয়। অ্যালোভেরার গাছ উজ্জ্বল আলোতে ভালো হয়।
টবে লাগানো অ্যালোভেরায় নিয়মিত পানি দেয়ার দরকার হয় না। সপ্তাহে একদিন পানি দিলেই হয়। তবে ফ্লাওয়ার ভাসে পানি দিয়ে রাখলেও অ্যালোভেরা টিকে থাকে কিছুদিন। তারপর তা মাটিতে পুতে দিন।
পিস লিলি
পিস লিলির আছে অনবদ্য ফুলের শোভা। আর এই গাছের পাতাগুলোও বেশ বড় বড়। এ গাছটি যেমন চোখে শান্তি আনে, তেমনই গরমে বাতাস শীতল রেখে আরামও দেয়। পরিবেশ থেকে বিভিন্ন রকম বিষাক্ত পদার্থের পরিমাণ কমিয়ে আনে। গাছটি কেনার সময়ে মনে রাখবেন, যে গাছে যত পাতা, সেই গাছ পরিবেশকে তত বেশি শীতল রাখে। তাই একটু বড় পাতা দেখে কেনা ভালো।
পটহোজ
ইনডোর প্ল্যান্ট কেনাই তো শেষ কথা নয়। সাথে থাকে পরিচর্যার ঝামেলাও। যদি পরিচর্যার ঝামেলা এড়ানো উদ্দেশ্য হয়, তাহলে পটহোজের চেয়ে ভালো কিছু হতেই পারে না। এটি দেখতে খুব সুন্দর গাছ, একইসাথে বাতাস পরিশুদ্ধ করে ঘরের তাপমাত্রা শীতল রাখবে। তার জন্য দিনে একবার পানি দিলেই যথেষ্ট।
উইপিং ফিগ
উইপিং ফিগ গাছের আরেকটি নাম আছে। ফিকাস বেঞ্জামিনা বলেও ডাকা হয় এই গাছকে। প্রস্বেদনের কারণে এই গাছের পাতা থেকে পানি ঝরে। পাতার পানি ঝরার কারণে বাতাসে আর্দ্রতা তৈরি করে। তাই ঘরে রাখলে তাপমাত্রা যেমন শীতল থাকে তেমনি দেখতেও খুব সুন্দর। ঘরের ভেতরে খুব সুন্দরভাবে এই গাছগুলো বেড়ে উঠে এবং গাছে প্রচুর পাতা থাকে ফলে স্বেদনও বেশি হয়। এই গাছ বাতাসে কোনও ভারী ধাতুর উপস্থিতি থাকলে তা দূর করে।
স্নেক প্ল্যান্ট
সৌন্দর্য বর্ধন ও নানা উপকারের কারণে বাড়িতে এখন অনেকেই স্নেক প্ল্যান্ট লাগান। বিশেষ করে এই গাছ লিভিংরূম ও বেডরুমের জন্য উপযুক্ত। কারণ এই গাছটি অক্সিজেন শোষণ করে না। বরং অক্সিজেন ছেড়ে ঘরকে শীতল ও সতেজ রাখে। এটি অনেক রসালো এবং রাতে অক্সিজেন নিঃসরণ করে ফলে ঘরের বাতাস শীতল থাকে। এই কারণে গাছটির আরেকটি নাম রয়েছে, ‘মাদার ইন লস টাঙ’। এছাড়াও গাছটি বাতাস থেকে টক্সিন অপসারণের জন্যও পরিচিত। এই গাছগুলোও বাতাসে উপস্থিত ফরমালডিহাইড এবং বেনজিন শোষণ করে নেয়।
আরও পড়ুন: গরমে তৈলাক্ত ত্বক সমস্যার সমাধান
মানি প্ল্যান্ট
বাতাস বিশুদ্ধ করতে হিউমিডিফায়ার হিসেবে গোল্ডেন পোথোস বা মানি প্ল্যান্ট খুবই কার্যকর। মানি প্ল্যান্ট বাতাস থেকে একাধিক বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে পারে। ঘরে ভেতরে থাকা নানা রকম দূষিত পদার্থ, যেমন- ফরমালডিহাইড, বেনজিন, জাইলিন এবং কার্বন মনোক্সাইড দূর করে ঘরকে সতেজ রাখে। এই গাছের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণও তুলনামূলক সহজ। শুধু গাছটির পাতা বা কাণ্ড হলুদ হয়ে গেলে দ্রুত তা কেটে ফেলতে হবে।
ইনডোর প্ল্যান্ট/এসকেএম/কিউটি
আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD















Leave a Reply