গায়ে আগুন লাগিয়ে ফুটবলারের আত্মহত্যা

স্পোর্টস ডেস্ক: গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিউনিসিয়ার পেশাদার ফুটবলার নিজার ইসাউয়ি।

তিউনিসিয়ার মধ্যাঞ্চলের প্রদেশ কাইরাউনের হাফৌজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, কলার দাম দ্বিগুণ করেছে তিউনিসিয়া সরকার। প্রতিকেজি কলা ১০ দিনারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫০ টাকা) কমে কিনতে পারেননি ইসাউয়ি। সেই অঞ্চলের পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানানোর পর পুলিশই উল্টো তাকে ‘সন্ত্রাসী’ কার্যক্রমের জন্য অভিযুক্ত করে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইসাউয়ির পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘পুলিশের অবিচারের’ প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

গত সপ্তাহের শুরুতে গায়ে আগুন দেন ইসাউয়ি। স্থানীয় কাইরাউন অঞ্চলের হাসপাতাল থেকে তাকে তিউনিসিয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। সেখানে তিনি বৃহস্পতিবার মারা যান।

রয়টার্স জানিয়েছে, তিউনিসিয়ার শীর্ষ লিগের দল ইউএস মনতাসিরে খেলেছেন চার সন্তানের জনক ইসাউয়ি। মৃত্যুর আগে ফ্রি এজেন্ট হয়ে পড়েছিলেন। খেলতেন অপেশাদার লিগে।

এদিকে ইসাউয়ির আত্মহত্যায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশটির হাফৌজ অঞ্চলে তরুণরা প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। পুলিশের প্রতি পাথর ছুড়ে মারেন তারা। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসাউয়ির একটি ভিডিও সেলফি ছড়িয়ে পড়েছে। ইসাউয়ি সেখানে চিৎকার করে বলেছেন, ১০ দিনারে কলা বিক্রি করছে, এমন কারও সাথে বাদানুবাদের পর পুলিশ স্টেশন আমাকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অভিযুক্ত করেছে। হ্যাঁ, কলা নিয়ে অভিযোগের জন্য এটা বলা হয়েছে।

মৃত্যুর আগে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন ইসাউয়ি। সেখানে তিনি বলেছেন, নিজের জন্য ‘আগুনে পুড়ে মৃত্যুর’ রায় চূড়ান্ত করেছেন, ‘আমার আর শক্তি নেই। এই পুলিশি রাষ্ট্রকে জানতে দিন রায়টা আজই কার্যকর করা হবে।’

এ ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে ভিড় করে প্রতিবাদ জানায় উত্তেজিত জনতা। তবে তিউনিসিয়ার প্রশাসনের তরফ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তিউনিসিয়া/এসকেএম

আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com

আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD

https://www.youtube.com/channel/UCC2oLwZJYHIEygcbPX3OsWQ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *