ঘৃণিত, ধিকৃত ও বর্জিতদের ভাড়াটেরা ষড়যন্ত্র করছে

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): বিদেশি মিডিয়ার স্লট ভাড়া করে একটি চিহ্নিত চক্র দেশবিরোধী অপপ্রচার করছে। দেশবাসীকে এদের বিরুদ্ধে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ডক্টর হাছান মাহমুদ।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সংগঠনটি ‘একুশের চেতনায় বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নেয়া গোষ্ঠী দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এদের সাথে আছেন স্বনামধন্য একজন আইনজীবীর মেয়ের ইহুদী জামাতাসহ স্বাধীনতা বিরোধী জামাত চক্র।

মন্ত্রী বলেন, মানুষের কাছে ঘৃণিত, ধিকৃত ও বর্জিতরা এখন মানুষ ভাড়া করছে। এসব ভাড়াটে মানুষ আন্তর্জাতিক মিডিয়ার স্লট ভাড়া করে, দেশের বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন মিডিয়ায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত কিছু প্রতিবেদন সেই অপচেষ্টারই প্রতিফলন মাত্র। কিছু ভুল ও অসত্য তথ্য কাট-পেস্ট করে যে ধরনের প্রতিবেদন প্রচার করা হচ্ছে, সেটি আসলে দেশের বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু নয়।

ডক্টর হাছান মাহমুদ বলেন, অতীতে যেমন বঙ্গবন্ধুর বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, এখনও দেশের বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এগুলো করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এটি অনেকের পছন্দ নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সঠিকভাবে করোনা মোকাবেলায় সমর্থ হয়েছে। এটি অনেকের গাত্রদাহের কারণ হয়েছে। এজন্যই তারা এই ঘৃণ্য নতুন খেলায় মেতে উঠেছে। কিন্তু এই খেলা খেলে কোনও লাভ হবে না। বিশ্বব্যাংক একসময় বড় একটি দেশের সহায়তা নিয়ে এদেশে পদ্মাসেতুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল। সেটি ভেস্তে গেছে। এখনও যে সব ষড়যন্ত্র হচ্ছে, সেগুলোও ভেস্তে যাবে।

মন্ত্রী বলেন, যারা পলাতক, যুদ্ধাপরাধী ট্রাইবুন্যালে যাদের বিচার হচ্ছে, তারা এখন বিদেশি গণমাধ্যমে এসব বানোয়াট প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। দেশের মানুষ সজাগ আছে। সতর্ক আছে এবং আওয়ামী লীগের ভিত্তি ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এই সরকারের ভিত্তি তৃণমূলে প্রথিত। তাই এই ছোটখাট কাতুকুতু দিয়ে লাভ হবে না।

ডক্টর হাছান ফেব্রুয়ারিকে মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার মাস এবং একুশে ফেব্রুয়ারিকে আমাদের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রথম স্ফুলিঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করেন। বলেন, ইতিহাস কখনও চাপা থাকে না। ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অবদান ছিল। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যখন ঢাকার কার্জন হলে ‘উর্দু হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই সময় যে প্রতিবাদ হয়েছিল, তা তুলেছিলেন সে সময়ের তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান। তিনিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহ’র ঘোষণার প্রতিবাদে প্রথম সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি তিনি কারাগারে দীর্ঘ অন্তরীণের মধ্যে ভাষার দাবিতে, হত্যা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে অনশন করেছিলেন। এ ইতিহাস সবার জানা নেই। ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হাজার বছরের ঘুমন্ত বাঙালিকে ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’ এই শ্লোগানে মুক্তির মন্ত্রে জাগ্রত করে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এদেশকে স্বাধীন করেছেন। প্রথমবারের মতো বাঙালি জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে উল্লেখ করেন ডক্টর হাছান।

স্বাধীনতা পরিষদের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার জাকির আহম্মদের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র সহ-সভাপতি সংসদ সদস্য নূরুল আমিন রুহুল, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, সংগঠনের সভাপতি জিন্নাত আলী জিন্নাহ, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন টয়েল, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম রনি বক্তব্য রাখেন।

তথ্যমন্ত্রী/এসকেএম/আরএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *