৭ এপ্রিল ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): একুশে পদকপ্রাপ্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক, লোকগানের শিল্পী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইন্দ্রমোহন রাজবংশী মারা গেছেন। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোকবাণীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শোক সন্তোপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
আজ (বুধবার) বেলা ১১টার দিকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করলে মহাখালীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করানো হয় এবং ফলাফল পজেটিভ হয়। এছাড়া বুকের সিটিস্ক্যান রিপোর্টে তার ফুসফুসে ৮৫ শতাংশ ইনফেকশন ধরা পড়ে। এরপর ঢাকার আরেকটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে হাসপাতাল বদল করে দু’দিন আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। এখানেই তিনি মারা যান। ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর স্ত্রী দীপ্তি রাজবংশীও অসুস্থ বলে জানা গেছে।
ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর জন্ম ১৯৪৬ সালের ২৬ জানুয়ারি। ১৯৫০ সালে তিনি তার দাদা কৃষ্ণ দাস রাজবংশীর কাছে সংগীতে তালিম নেন।
ইন্দ্রমোহন রাজবংশী যাত্রা, পালা গান, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, জারি, সারি, মুর্শিদী, নজরুলগীতি-সহ বিভিন্ন ধরনের গান গাইতেন। ১৯৭৪ সালে তিনি সরকারি সঙ্গীত কলেজে যোগ দেন। সেখানে তিনি লোকসংগীত বিভাগের প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ লোকসংগীত পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা। বুলবুল ললিতকলা একাডেমীতে তিনি নজরুলগীতির উপর ৫ বছরের কোর্স পরিচালনা করতেন। চলচ্চিত্র, বেতার ও টেলিভিশন তিনি অসংখ্য গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। ১৯৬৭ সালে ‘চেনা অচেনা’ চলচ্চিত্রের গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে প্লে-ব্যাক শুরু করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ িতকলা একাডেমীতে তিনি নজরুল ্চচdjgkwsশুরু হলে ইন্দ্রমোহন রাজবংশী যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে যাওয়ার পথে তিনি পাকিস্তানিদের হাতে ধরা পড়েন। ফলে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি যেতে পারেননি। পাকিস্তানিরা হিন্দুদের ওপর অকথ্য নির্যাতন করতো বলে ইন্দ্রমোহন রাজবংশী নিজের নাম ও পরিচয় গোপন রেখে পাকিস্তানিদের দোভাষী হিসেবে কিছুদিন কাজ করেন। পরে সেখান থেকে চলে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা দিতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গান গাওয়া শুরু করেন।
ইন্দ্রমোহন রাজবংশী গান গাওয়ার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকগান সংগ্রহ করতেন। এক হাজারেরও বেশি কবির লেখা কয়েক লাখ গান সংগ্রহ করেছেন তিনি।
ইন্দ্রমোহন রাজবংশী সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
ইন্দ্রমোহন রাজবংশী/টিটি/কিউটি














Leave a Reply