পাপিয়ার মৌবনের প্রভাবশালী খদ্দেররা আতঙ্কিত

টক অব দ্যা কান্ট্রি শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ মুখ খুলতে শুরু করায় ঘুম হারাম অনেক রাঘব বোয়ালের। তার মৌবনের খদ্দের রাঘব বোয়ালরা আতঙ্কিত হয়ে উঠছেন। রিমাণ্ডে পাপিয়া তার নামটি বলেছে কিনা তা জানতে মরিয়া বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাও। তাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

পাপিয়া পিউ’র জন্মদিনের আয়াজন। ছবি: পাপিয়ার ফেসবুক থেকে

রিমাণ্ডে পাপিয়া জানিয়েছে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম। এসব নেতার সাথে তার ‘বিশেষ সম্পর্ক’। এই নেতারা বিভিন্ন সুবিধা আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে তরুণী পাঠাতেন। তরুণী যোগান দিতে তারা যোগাযোগ করতেন পাপিয়ার সাথে। এই নেতাদের অনেকেরই ‘অন্তরঙ্গ মুহূর্তের বিশেষ’ ছবি তুলে রাখতো পাপিয়া। পরে তা ব্ল্যাক মেইলিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হতো।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, পাপিয়ার ‘সংগ্রহে’ ছিল ১২ জন রাশিয়ান তরুণী। এই বিদেশীনিদের ব্যবহার করা হতো ভিআইপিদের জন্য। রুশ তরুণীদের মাধ্যমে পাপিয়া ভিআইপিদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হতো মোটা অঙ্কের টাকা। র‌্যাব সূত্র জানায়, রিমাণ্ডের প্রথম দিনেই পাপিয়া এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি দিয়েছে।

পাপিয়ার মূল ব্যবসা অনৈতিকায় ঘেরা। এই ব্যবসা চালাতো রাজনীতি ও গাড়ির শো-রুমের আড়ালে। ভিআইপি খদ্দেরদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ব্যবহার করে ব্ল্যাক মেইলিংয়ের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন দফতরে নিয়োগ বাণিজ্য করতো পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন।

জানা গেছে, রাজনীতিতে পাপিয়ার উত্থানের পিছনে দুই জন প্রভাবশালী নেত্রীর ভূমিকা রয়েছে। এদের একজন সাবেক সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত আসনের)। তার সাথে পাপিয়ার গাড়ির ব্যবসাও রয়েছে। পাপিয়া জিজ্ঞাসাবাদে এই দুই নেত্রীর নামসহ নানা তথ্য দিয়েছে। জানিয়েছে, পাপিয়ার উত্থানের পর দুই নেত্রীই পাপিয়ার কাছ থেকে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা নিতেন।

পাপিয়া-সুমন দম্পতি

এদিকে, রাজধানীর বিমান বন্দর থানায় পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পাপিয়া-সুমন দম্পতিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এসময় তারা পাপিয়ার কাছ থেকে কয়েকজন ভিআইপি’র নাম শুনে বিব্রত হয়েছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া তাদের বলেছে, অনেক নেতাই তরুণীর যোগান পেতে পাপিয়ার সহায়তা নিতেন। পাপিয়া জানায়, ভিআইপিদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটে গোপনে ধারণ করে রাখা হতো। পরে সেই সব ভিডিও ফুটেজ তাদের দেখানো হতো এবং অনলাইনে সেগুলো ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলা হতো। নিজেদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় ভিআইপিরা পাপিয়াকে মোটা অংকের টাকা দিতেন।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পাপিয়া ইতোমধ্যেই স্বীকার করেছে, বাংলাদেশে প্রথম অনলাইনভিত্তিক যৌন ব্যবসার প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলে পাপিয়া। কয়েক বছর আগে গড়ে তোলা এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভাগীয় শহরেও ছড়িয়ে পরে পাপিয়ার নেটওয়ার্ক। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাপিয়া সুন্দরী মেয়েদের যোগান দিতে সক্ষম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *