বিটিভি-তে প্রচার হবে মঞ্চনাটক

১৯ জানুয়ারি ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): তথ্যমন্ত্রী ডক্টর হাছান মাহমুদ বলেছেন, সংস্কৃতি চর্চার বৃদ্ধি নতুন প্রজন্মকে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ থেকে দূরে রাখবে।

সোমবার রাতে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সব্যসাচী নাট্যজন মমতাজউদ্দীন আহমদের ৮৭তম জন্মজয়ন্তির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

নাট্যকার মমতাজউদ্দীন আহমদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের দেশে আশি ও নব্বুইয়ের দশকে অনেক মঞ্চ নাটক হতো। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় অনেক পথনাটক হতো। এখন সেভাবে হচ্ছে না। আবার মঞ্চ নাটকের সেই সুদিন ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। কারণ সাংস্কৃতিক চর্চা যতই ব্যাপক হবে, ততই আমাদের নতুন প্রজন্মের মনন তৈরি, নিজস্ব সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং আকাশ সংস্কৃতির বিজাতীয় থাবা থেকে মুক্ত থাকা সহজ হবে। দেশের নাট্যজনদের এ বিষয়ে পরিকল্পনার অনুরোধ জানাই।

তথ্যমন্ত্রী তার নিজের নাট্যজগতে বিচরণের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি চট্টগ্রামের তীর্যক নাট্যদলের মঞ্চ ও যাত্রাদলের সদস্য ছিলেন। মন্ত্রী দেশের সকল জেলায় মঞ্চ নাটক উৎসাহিত করার জন্য প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন জেলায় ১০দিন ব্যাপী নাটক মঞ্চায়নের প্রস্তাবনা দেন এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে মঞ্চ নাটক প্রচারের উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান।

ডক্টর হাছান বলেন, এটি মনে করার কোনো কারণ নেই যে, আকাশ সংস্কৃতি বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কারণে মঞ্চ নাটক হারিয়ে যাবে। তাহলে সমস্ত থিয়েটার বন্ধ হয়ে যেত, কিন্তু সেটি হয়নি। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে ওটিটি প্লাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, এতো কিছুর পরও সেখানে কিন্তু ৬ হাজার সিনেমা হল আছে। ভারতে ৮ হাজারের কাছাকাছি সিনেমা হল আছে। একইসাথে ইউরোপে প্রচুর থিয়েটার হল আছে। সেখানে প্রচুর লোক যায়। লাইন ধরে টিকেট কেটে মঞ্চের পরিবেশনা দেখে। আমরাও তেমন ছিলাম, সেই জায়গাতেই আবার ফেরা দরকার। কারণ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড যত বৃদ্ধি পাবে, তত আমাদের জাতীয়তা, সংস্কৃতি ও দেশাত্মবোধ আরও গভীরে প্রথিত হবে। তা না হলে এগুলো রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা যে বৈরী পরিবেশের সম্মুখীন হচ্ছি, সেটি আরও বৈরী হতে থাকবে।

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে ও প্রবীর দত্ত অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আতাউর রহমান, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, নাট্য সংগঠন থিয়েটার-এর সভাপতি ডক্টর নিলুফার বানু, সাধারণ সম্পাদক অশোক রায় নন্দী-সহ অন্যান্য আলোচকরা প্রয়াত নাট্যজন মমতাজউদ্দীন আহমদকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

অনুষ্ঠানে গান ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন মুনিরা ইউসুফ মেমী ও জিয়াউল হাসান কিসলু। সবশেষে মমতাজউদ্দীন আহমদের নাটক ‘ফলাফল নিম্নচাপ’ পরিবেশিত হয়।

সংস্কৃতিচর্চা/এসকেএম/আরএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *