ভাষানচরে রোহিঙ্গাদের প্রথম দল

৪ ডিসেম্বর ২০২০ (নিউজ ডেস্ক): ভাষানচরে পৌঁছেছে রোহিঙ্গাদের প্রথম দল। এই দলে রয়েছে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা। নৌ-বাহিনীর সাতটি জাহাজে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেটি থেকে জাহাজগুলো ভাষানচরের উদ্দেশে রওনা হয়।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভাষানচরের উদ্দেশে জাহাজগুলো রওনা দেয়। চট্টগ্রাম বোট ক্লাব জেটি থেকে তিনটি, আরআরবি জেটি থেকে দুইটি ও কোস্টগার্ড জেটি থেকে সেনাবাহিনীর একটি জাহাজে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুর দুইটার পর জাহাজগুলো ভাষানচরে নোঙর ফেলে। এছাড়া দুটি জাহাজে করে তাদের মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম কে জেড শামীম জানিয়েছেন, এসপ্তাহে আরও সাড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গাকে পতেঙ্গা হয়ে ভাসানচরে পাঠানোর হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে এ স্থানান্তর কাজ সম্পন্ন হবে।

বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের বহনকারী ৩৯টি বাস কক্সবাজারের উখিয়া কলেজের মাঠ থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। ১ হাজার ৬৩৫ জন রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষ রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। পতেঙ্গা বিএএফ শাহীন কলেজ মাঠ, বোট ক্লাব এবং এর আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্পে তাদের রাখা হয়।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাষানচরে নিয়ে যাওয়া হবে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গাকে নেয়া হবে সেখানে। রোহিঙ্গাদের এই দলটি থাকবে ভাষানচরের অত্যাধুনিক আবাসন প্রকল্পে। এরই মধ্যে ভাষানচরে মজুদ করা হয়েছে তিন মাসের খাবার। প্রথম দিকে রোহিঙ্গাদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করবে বেসরকারি সংস্থাগুলো। এজন্য ২২টি এনজিও’র প্রতিনিধিরা কাজ শুরু করেছে সেখানে।

সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারপারসন জেসমিন প্রেমা জানান, শুধু আগ্রহী রোহিঙ্গাদের ভাষানচরে নেয়ার কাজ করছে সরকার এবং ২২টি উন্নয়ন সংস্থা। এসব রোহিঙ্গাকে জাহাজে ওঠার আগে বিভিন্ন ডাটা এন্ট্রি সাপেক্ষে বরাদ্দকৃত আশ্রায়ণের টোকেন ও চাবি হস্তান্তর করা হয়। ভাষানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য আধুনিক বাসস্থান ছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও খেলার মাঠ গড়ে তোলা হয়েছে।

সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ সামছুদ্দৌজা জানান, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য সেখানে মহিষ, ভেড়া, হাঁস, কবুতর পালন করা হচ্ছে। আবাদ করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি। পরীক্ষামূলকভাবে ধান চাষও করা হচ্ছে। প্রকল্পটিতে যেন এক লাখ ১ হাজার ৩৬০ শরণার্থী বসবাস করতে পারেন সে জন্য গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়েছে। ১২০টি গুচ্ছগ্রামে ঘরের সংখ্যা ১ হাজার ৪৪০টি।

তিনি বলেন, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে ভাষানচরে নিয়ে রাখা হয়েছিল। এরপর গত ৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধি দলকে দেখার জন্য ভাষানচরে পাঠানো হয়। তারা ফেরার পর তাদের কথা শুনে রোহিঙ্গাদের একাংশ ভাষানচরে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করে বলে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা/আরএম/কিউটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *