১৭ এপ্রিল ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বোমা ফাটালেন। ইঙ্গিত দিলেন, দলের আরেক নেতা ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যে বিএনপি’রই কয়েকজন জড়িত। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, সিলেট অঞ্চলের ডাকসাইটে নেতা ইলিয়াস আলী ৯ বছর ধরে নিখোঁজ। তার নিঁখোজ হওয়ার পিছনে কারা জড়িত তা নিয়ে অনেক রকম গল্প ছিল। কিন্তু এ প্রথম বিএনপি’র একজন শীর্ষ নেতা এমন ইঙ্গিত দিলেন যা নতুন করে ভাবনা তৈরি করে।
শনিবার সিলেট বিভাগ জাতীয়তাবাদী সংহতি সম্মেলনী, ঢাকা’র উধ্যোগে আয়োজিত আলোচনায় তিনি ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা এবং ইলিয়াস আলীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে ভার্চ্যুয়াল এ আলোচনা সভা হয়।
আলোচনায় অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, জহিরউদ্দিন স্বপন, কামরুজ্জামান রতন, আজিজুল বারী হেলাল, নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রুশদীর লুনা-সহ অন্যান্য নেতারা।
সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী সম্পর্কে আলোচনায় মির্জা আব্বাস বলেছেন, তিনি ছিলেন স্বাধীনচেতা, দেশপ্রেমিক সাহসী নেতা। আমাদের দলের মহাসচিব আছেন, তাকে বলতে চাই, ইলিয়াস গুমের পিছনে আমাদের দলের যে বদমাইশগুলো রয়েছে তাদেরও চিহ্নিত করার ব্যবস্থ্যা করুন। এদের অনেকেই চেনেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ইলিয়াস গুম হওয়ার আগের রাতে দলীয় অফিসে কোন এক ব্যক্তির সাথে তার বাকবিতণ্ডা হয়, ইলিয়াস খুব গালিগালাজ করেছিল তাকে। সেই বিষধর সাপগুলো এখনও আমাদের দলে রয়ে গেছে। যদি এদের দল থেকে বিতাড়িত করতে না পারি সামনে এগুতে পারবেন না কোন অবস্থাতেই।
তিনি বলেন, ছাত্র নেতাদের সাথে ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যদিয়ে আমার সাথে ইলিয়াসের সম্পর্ক। ভালোবাসার ছাত্র নেতাদের মধ্যে ইলিয়াস ছিল অন্যতম। ইলিয়াস যে রাতে গুম হয় ওই রাতে দেড়টা থেকে পৌণে দুইটার দিকে খবর পাই। তাৎক্ষণিকভাবে আমার পরিচিত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করি। তারা আমাকে জানায়, তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে মজার বিষয়, যেই পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে থেকে নেয়া হলো সেই পুলিশ কর্মকর্তাদের আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এই খবরটা আপনারা (উপস্থিত নেতারা) জানেন না। সেই গাড়িতে যে কয়জন পুলিশ কর্মকর্তা ছিল তাদের আজও পাওয়া যায়নি। যেহেতু ইলিয়াস আলীর গাড়ি চালককেও পাওয়া যায়নি। তাহলে এই কাজটি কে করলো?
মির্জা আব্বাস মন্তব্য করেন, আমরা কিন্তু সামনের লক্ষণ ভালো দেখছি না। ইলিয়াসকে গুমের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হতে যাচ্ছে। আমি বারবার বলি নেতৃত্ব শূণ্যতার কথা। হিসেব করে দেখেন, একটা একটা করে রাজনৈতিক দল শেষ করে দেয়া হচ্ছে। এখন চলছে হেফাজত। বিএনপির ওপর নির্যাতনতো চলছেই। একটা সময় আওয়ামী লীগকেও শেষ করে দেয়ার চেষ্টা করা হবে। আমি ধরে নিলাম আওয়ামী লীগ সরকার ইলিয়াসকে গুম করেনি, তাহলে গুম করলো কে? আমাদের একজন নেতা সালাহউদ্দিনকে পাচার করে নিয়ে গেল, চৌধুরী আলমকে গুম করা হলো, আমাদের দলের বহু নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। এটা কিন্তু বাংলাদেশ ধ্বংস করার আলামত।
খালদা জিয়ার দুইবারের মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী এ সদস্য বলেন, যারা এই গুম করলো তারা এই দেশের স্বাধীনতা চায়নি। তারা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব থাকতে দিবে না। বেঁচে থাকি কিনা জানি না, দেখবেন সামনে আরও ঘটনা ঘটবে। গণমাধ্যমে খবর দেখলাম প্রত্যেক থানার সামনে মেশিনগান ফিট করেছে। বালুর বস্তা দিয়ে বাঙ্কার করা… এসব কিসের আলামত? কাকে মারার জন্য এসব লাগবে?
তিনি বলেন, যেখানে পুলিশ জনগণকে সুরক্ষা দিবে সেখানে পুলিশের সুরক্ষা… এটা আমার কাছে আশ্চর্য লাগে। পুলিশকে কে আক্রমণ করতে যাবে?
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী ও তার গাড়ি চালক রাজধানীর বনানী থেকে নিখোঁজ হন।
মির্জা আব্বাস/আরএম/রমু
















Leave a Reply