মেসি ও তার ভক্তদের সান্ত্বনা

করোনাকালে সময় কাটানো কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা কিঞ্চিৎ সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতে পক্ষ-বিপক্ষে ভাগ হয়ে মেতে উঠছেন। কেটে যাচ্ছে সময়। মাতামাতিতে সবশেষ বিষয় উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ। গোলের বন্যায় ভেসে যাওয়া বার্সেলোনাকে নিয়ে চলছে ট্রল। বার্সা, তথা মেসি সমর্থকরা চাপে আছেন, ভীষণ চাপে। গর্ত থেকে মাঝে মধ্যে কেউ খানিকটা মুখ বের করছেন। মনে করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের কথা।

বার্সা দুই হালি হজম করেছে বায়ার্ন মিউনিখের পাল্লায় পড়ে। এই নিয়ে চলছে নানা সরেস আলোচনা। সাথে যোগ হয়েছে পরিসংখ্যান ঘাটা আর ইতিহাসের পৃষ্ঠা উল্টানো। এ দফায় বার্সার বর্তমান প্রজন্মের সমর্থকদের জন্য দারুণ সুখবর আছে। লজ্জা থেকে রেহাই পাওয়ার মত দারুণ এক তথ্য পাওয়া গেছে।

১৪ আগস্ট শুক্রবার (বাংলাদেশে ১৫ আগস্ট শনিবার) বার্সার নেট লণ্ডভণ্ড হওয়ার ঘটনায় খুব বেশি দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই। বার্সার এরচেয়েও বেশি গোল খাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে।

বরং বায়ার্ন মিউনিখ ও তাদের সমর্থকদের আফসোস করার কারণ ঘটেছে ওই ম্যাচে। মেসিদের নিয়ে ছেলেখেলায় মেতে ওঠা ব্রাজিলিয়ান তারকা কোতিনহো-দের দুর্ভাগ্য, ৮ গোল দিয়েও ইতিহাসের অংশ হতে পারলো না। ভাঙতে পারলো না ৮০ বছরের ইতিহাস। সেই ইতিহাসের কথা চিন্তা করে মেসি ও তার ভক্তরা সান্ত্বনা পেতে পারেন।

৮০ বছর আগে, সেই ১৯৪০ সালে ১১ গোল হজম করেছিলেন লিওনেল মেসির পূর্বসূরীরা। তারও ৫ বছর আগে রিয়াল মাদ্রিদ সুনামিতে ভাসিয়েছিল বার্সার জাল।

বার্সার তিন লজ্জা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক:

এফসি বার্সেলোনা ১-১১ সেভিয়া (লা লিগা, ১৯৪০)

শুরুতেই এক গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। দশ মিনিটে দেয়া বার্সার সেই গোল তাঁতিয়ে দেয় সেভিয়ার আক্রমণ ভাগকে। ২৩ মিনিটে গোলের বন্ধ্যাত্ব দূর করে সেভিয়ার আক্রমণ ভাগ। পরের ৬০ মিনিটে আরও ১০ বার বল বার্সার জাল স্পর্শ করে।

বার্সার এই ১১ গোল হজমের রেকর্ডের সমকক্ষ হতে চাইবে না বাংলাদেশের ভুরুঙ্গামারী একাদশও।

বার্সেলোনা ২-৮ রিয়াল মাদ্রিদ (লা লিগা, ১৯৩৫)

সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের দুই ফরোয়ার্ডের কাছেই হেরে বসে বার্সেলোনা। লা লিগার সেই ম্যাচে ফার্নান্দো সানুদ লক্ষ্যভেদ করলেন ৪ বার। সতীর্থ জেইমি লাজকানোই-বা কম যাবেন কেন! তিনিও হ্যাটট্রিকের স্বাদ নিলেন।

১৯৩৫ সালের সেই দিনটির দুঃখ ভুলতে বার্সেলোনার মাত্র ৫ বছর লেগেছিল। সেভিয়ার কাছে ১১ গোলের হার রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হারের শোক ভুলিয়ে দিয়েছিল।

বার্সেলোনা ২-৮ বায়ার্ন মিউনিখ (উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০২০)

২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দুই লেগ মিলে বায়ার্নের কাছে ৭ গোল খেয়েছিল বার্সেলোনা। তাতে মন ভরেনি বায়ার্নের। এবার (১৪ আগস্ট ২০২০) এক ম্যাচেই বার্সেলোনাকে নাস্তানাবুদ করলো ৮-২ গোলে হারিয়ে। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় ঘন্টা বাজালো ভীনগ্রহের স্ট্রাইকার খ্যাত লিওনেল মেসির বার্সেলোনার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *