শিল্পী মোস্তাফিজুল হকের ফিরে দেখা

কাজী তামান্না: বাংলাদেশের পঞ্চাশ বছর। শিল্পী জীবনের সময়কালও পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশের সাথেই। চড়াই উৎড়াই ছিল, আছে, হয়তো ভবিষ্যতেও থাকবে বা থাকতে পারে। তাই বলে থেমে যাওয়া জীবনের ধর্ম না। এ কারণেই করোনার কঠোর সময়েও থেমে যায় না শিল্পীর তুলি। বরং আরও শাণিত হয় কখনও কখনও। সে কারণেই বিশ্ব যখন থমকে দাঁড়ায়, শিল্পী মোস্তাফিজুল হক তখন তীব্র আবেগে দাবড়ে বেড়ান চিন্তার জগতে।

করোনাকালে শিল্পী মোস্তাফিজুল হকের ভাবনা জগতে আসে পরিবর্তন। তার কাজে প্রতিক হিসেবে প্রবলভাবে উপস্থিত হয় পাখি। করোনার মত অশুভ শক্তির প্রতিক হিসেবে তিনি সামনে আনলেন শকুন, বাজপাখি আর কাককে। অশুভের প্রতিবন্ধকতা ছিন্ন করতে আঁকলেন শুভ্রতায় পরিপূর্ণ হাঁস আর রাজহাঁসের পাল। সঙ্কট মোকাবেলার প্রতিক হিসেবে মোরগ হাজির হয় ক্যানভাসে। বিষাদময় সময়কে ধারণ করতে তুলিতে নীলের আধিক্য। আধিক্য এসেছে চিত্রপটে শূণ্য পরিসরের।

এই করোনাকালে জন্ম নেয়া বোধ থেকে আয়োজন করলেন ভার্চ্যুয়াল প্রদর্শনীর। ভার্চ্যুয়াল জগতে প্রথমবারের মত এমন আয়োজন সাড়া ফেলে। বিক্রি হয় বেশ কিছু ছবি। আয়টা বেশ ভাল হলো। ছবি আঁকা, প্রদর্শনী করা আর শিল্প ও শিল্পীর কদর… একজন শিল্পীর মূল প্রাপ্তিতো এখানেই। ছবির আর্থিক মূল্য দিয়ে কি শিল্পীর মন ভরে? তাহলে শিল্পের বিনিময়ে পাওয়া টাকার কি হবে? তারও গতি হলো। শিল্পী মোস্তাফিজুল হক ছবি বিক্রি করে যে টাকা পেলেন তা দিলেন করোনার কারণে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়া শিল্পীদের। বেশ কিছু টাকা দিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। চারুকলা অনুষদের শিক্ষরা সেই টাকায় শিক্ষার্থীদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করলেন। শিক্ষার্থীদের অনেকে পেলেন রঙ আর কাগজ কেনার সহায়তা।

এমন মানবিক আর শিক্ষার্থীদের প্রিয় শিক্ষক শিল্পী মোস্তাফিজুল হক অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসা পৃথিবীতে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করলেন। “ফিরে দেখা” শিরোনামে আবার আয়োজন করলেন প্রদর্শনীর। এবার আর ভার্চ্যুয়ালি নয়। ঠিকানা রাজধানীতে… ধানমণ্ডির গ্যালারী চিত্রক। ২৬ জুলাই শুরু হয়েছে প্রদর্শনী। চলবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত।

কাপড় কিংবা কাগজের জমিনে তেল, অ্যাক্রেলিক, চারকোল কিংবা পেন্সিলের নিপুন আঁচড়ে শিল্পী মোস্তাফিজুল হক এঁকেছেন দারুণ সব ছবি। বাদ দেননি জাপানি ধ্রুপদী ঘরানার শিল্প মাধ্যমও।

শিল্পী মোস্তাফিজের প্রায় প্রতিটি ছবিতেই রয়েছে জীবনের জয়গান। রয়েছে গতি। কখনও ঘোড়া রূপে, আবার কখনও মোরগকে টেনে এনেছেন শৌর্যের প্রতিক হিসেবে। রঙের বৈচিত্র আছে, আছে আধিক্য… কিন্তু কোনটাই চোখের জন্য পীড়াদায়ক নয়। বরং মনে হবে, এতোটা রং না থাকলেই বুঝি ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যেত।

শিশুর সারল্যে ভরা শিল্পী মোস্তাফিজুল হক প্রতিদিন গ্যালারীতে উপস্থিত থেকে শিল্পরসিকদের প্রশ্নের ক্ষুধা মেটান। শিক্ষার্থীদের পেলে ছবি নিয়ে কথা বলেন, গ্যালারীকেই যেন মনে হয় একটা ক্লাস রুম। শিক্ষার্থীরাও মনযোগ দিয়ে দেখেন শিক্ষকের কাজ এবং শেখার চেষ্টা করেন।

আর্ট নিউজের পক্ষ থেকে শিল্পী মোস্তাফিজুল হকের জন্য শুভ কামণা নিরন্তর।

লেখক পরিচিতি: কাজী তামান্না; শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক ও কারুশিল্পী।

আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com

আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD

https://www.youtube.com/channel/UCC2oLwZJYHIEygcbPX3OsWQ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *