সালমান শাহ, আজিজ মোহাম্মদ ভাই এবং…

রহমান মুস্তাফিজের মন্তব্য প্রতিবেদন: সালমান শাহ মারা যাওয়ার পর নিয়মিত কাভার করতাম ঘটনাপ্রবাহ। আমি তখন ইউএনবি-তে, মাহবুব মতিন সংবাদে। কালচারাল বিটে আমরা মানিকজোড় হিসেবে পরিচিত ছিলাম। আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সাক্ষাতকার নিলাম দুই বন্ধু মিলে। তাতে যে ছবি ব্যবহার হয়েছিল সেটা আজিজ ভাই-ই দিয়েছিলেন। রাইফেল হাতের ওই ছবিটা তার পছন্দের ছিল।

সাক্ষাতকার প্রকাশের পর আমাদের দুই বন্ধুকে সবাই খুব বকলো, এভাবে আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে খুনী হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করায়। আমাদের আত্মগোপনে যাওয়ার পরামর্শ দিল সবাই।

অদ্ভুত বিষয় হলো, ওই নিউজ প্রকাশ হওয়ায় আজিজ ভাই সেদিন রাতেই পার্টি দিলেন। আমাদের নিমন্ত্রণ জানালেন। না গেলেও রক্ষা নেই, গেলে বেঁচে ফিরবো কিনা জানি না।

শেষমেষ কৌতুহলের জয় হলো। মাহবুব আর আমি যার যার অফিসে জানিয়ে পার্টিতে গেলাম। রাত ১০টার মধ্যে অফিসে যোগাযোগ না করলে পুলিশের সহায়তা নিতে হবে।

সেই এলাহীকাণ্ড পার্টিতে আমরা গেলাম। সবার সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হলো সাহসী সাংবাদিক হিসেবে।

ভিআইপি মর্যাদায় ডিনার খাওয়ানো হলো। এতে মৃত্যু ভয় আরও বাড়ে। প্রতিটি ভালো আর মোলায়েম আচরণ আমাদের শঙ্কা বাড়ায়।

সাড়ে ৯টার দিকে বিদায় নিলাম আজিজ ভাইয়ের কাছ থেকে। বিদায়ের সময় আমাদের দুই জনকে দুইটা খাম দিলেন। প্রত্যেকের জন্য ১ লাখ টাকা করে। এবার ভাবনা পাল্টালো। না, আমরা খুন হচ্ছি না এখনই। হয় ছিনতাইকারী হিসেবে পুলিশে দিবে, নয়তো গুলি খরচ না করে গণপিটুনী দিয়ে মারবে।

এতো কিছু ভাবার পাশাপাশি আমরা অপমানিত বোধও করলাম। নিউজের বিনিময় আমাদের টাকা সাধছে, কী ভয়ঙ্কর!!!

সে সময় আমার বেতন ৫ হাজার টাকা। সংবাদে মাহবুব পায় সাড়ে তিন হাজার। ওই প্রথম চাইলে নিজের হতে পারে এমন এক লাখ টাকা স্পর্শ করলাম।

অন্য কেউ নিউজের বিনিময়ে টাকা সাধলে থাপ্পড় মেরেছি। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় এবার এমন কাজ করতে নিষেধ করলো। বিনয়ের সাথে আজিজ ভাইকে ধন্যবাদ জানালাম। বললাম, ভাই, একসাথে এতো টাকা কখনও ছুয়ে দেখিনি। টাকাটা রাখারও জায়গা নেই। আপনার কাছেই থাকুক। যখন যা লাগবে, আপনার কাছ থেকে চেয়ে নিব।

তিনি স্থির চোখে আমাদের দেখলেন। তারপর খাম ফেরত নিলেন।

আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সাথে পরে দেখা হয়েছে অনেকবার। আমি এখনও নিশ্চিত নই, সালমান শাহকে আজিজ ভাই খুন করেছেন- নাকি ওটা আত্মহত্যা ছিল। শুধু সামিরা-ই পারে এ রহস্যের জট খুলতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *