সোমেন চন্দ দিবস আজ

নিউজ ডেস্ক: মাত্র ২২ বছরের জীবন ছিল সোমেন চন্দের। সেই জীবনের মাত্র পাঁচ বা সাড়ে পাঁচ বছরের মতো ছিল তার সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক জীবন। এই ক্ষুদ্র জীবনেই তিনি বিপ্লবী রাজনীতি, লেখালেখি, সাহিত্য আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

তার জন্ম ঢাকার কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের তেঘরিয়া গ্রামে নানাবাড়িতে। পার্শ্ববর্তী পারজুয়ারের ধীতপুর গ্রামে ছিল বাবার বাড়ি। আর তাদের আদি বাড়ি ছিল নরসিংদীর বালিয়ায়।

এই ক্ষুদ্র জীবনে সোমেন চন্দের হাতে জন্ম নিয়েছিল ২৪টি গল্প, একটি অসম্পূর্ণ উপন্যাস এবং ৩টি কবিতা। তার সাহিত্যজীবনের শুরু হয়েছিল মাত্র ১৭ বছর বয়সে। ওই বয়সেই তিনি লেখেন অসম্পূর্ণ উপন্যাস ‘বন্যা’। এর মধ্যে হয় মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া, আবার খারাপ স্বাস্থ্যের কারণে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে না পেরে ‘প্রগতি লেখক সংঘে’ যোগ দেওয়া; মার্ক্সবাদী রাজনীতি, শ্রমিক আন্দোলন ও সাহিত্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়া। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি তার বিখ্যাত ‘ইঁদুর’ গল্পটি লেখেন। এ গল্পটি ৬৭টি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল। তার জীবনে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিল বিপ্লবী সতীশ পাকড়াশী এবং সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক রণেশ দাশগুপ্ত। রণেশ দাশগুপ্তের সংস্পর্শ আমূল বদলে দিয়েছিল সোমেন চন্দকে।

১৯৪২ সালের ৮ মার্চ ঢাকার বুদ্ধিজীবী, লেখক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা ঢাকা শহরে এক ফ্যাসিবাদবিরোধী সম্মেলন আহ্বান করেন। সম্মেলন উপলক্ষে শহরে খুবই উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং রাজনৈতিক মহল প্রায় তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ফ্যাসিবাদবিরোধী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মিছিল যখন ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের বটতলার কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন আততায়ীরা মিছিলটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বাকিরা পালাতে পারলেও ছুরিকাঘাতে বিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সোমেন চন্দ। হত্যাকারীরা রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং শাবল দিয়ে খুবলে নেয় চোখ, টেনে ছিঁড়ে ফেলে জিব। এভাবে সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক কর্মী এবং অসম্ভব মেধাবী সাহিত্যিকের জীবনের অকাল পরিণতি ঘটে।

সোমেন চন্দ দিবস/এমএএম

আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com

আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD

https://www.youtube.com/channel/UCC2oLwZJYHIEygcbPX3OsWQ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *