৩ ডিসেম্বর ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর জেরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সিন্ডিকেট।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই সাথে বিকেল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে সিন্ডিকেট সভা শুরুর পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। তারা ছাত্র রাজনীতি বন্ধ না করাসহ ৫ দফা দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকিট্রক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সেলিম হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছে মারা যান। অভিযোগ উঠেছে, সেদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লাঞ্ছনা ও অপদস্থের শিকার হওয়ার পর তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন।
এ সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ক্যাম্পাসের রাস্তায় ডক্টর সেলিম হোসেনের সাথে খারাপ আচরণ করছেন। পরে তারা অধ্যাপককে অনুসরণ করে তড়িৎ প্রকৌশল ভবনে শিক্ষকের ব্যক্তিগত কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা প্রায় আধা ঘণ্টা কক্ষের ভেতর অবস্থান করে বেরিয়ে যান। পরে অধ্যাপক সেলিম বের হয়ে বাসায় যান।
নিহত শিক্ষকের স্বজনরা জানান, বাসায় ফেরার পর ডক্টর সেলিম বাথরুমে যান। বেলা আড়াইটার দিকে তার স্ত্রী লক্ষ্য করেন, দীর্ঘ সময় হলেও সেলিম হোসেন বের হচ্ছেন না। পরে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে বুধবার (১ ডিসেম্বর) উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা। তারা ৫ দফা দাবি জানান। পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবিতে কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন শিক্ষকরা।
শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জরুরী সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা শেষ হয়েছিল।
কুয়েট/এসকেএম/আরএম
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে:
















Leave a Reply