১০ জুন ২০২২ (নিউজ ডেস্ক): চলছে প্রবল খরতাপের গ্রীষ্মকাল। অতিরিক্ত গরমে আমরা সাধারণত ফ্যান কিংবা এসি ছেড়ে দেই। এতে বাড়ে বিদ্যুৎ বিল। এই ঝক্কি এড়াতেই ভাবি যদি সাশ্রয়ী মূল্যে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে ঘর ঠাণ্ডা রাখতে পারতাম কতোই না ভালো হতো। কিন্তু কীভাবে? এর জন্য সমাধান হলো ঘরে গাছ লাগানো। বিভিন্ন আধুনিক গবেষণা বলছে, এসব গাছ যে শুধু প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে ঘরকে ঠাণ্ডা রাখে তা-ই নয়, ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা যোগ করতেও সহায়তা করে।
গ্রীষ্মের সময় কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট আছে যা আপনার ঘরকে শীতল রাখবে।
স্পাইডার প্লান্ট
ঘরের গাছপ্রেমীদের খুব পছন্দের একটি গাছ হচ্ছে এই স্পাইডার প্লান্ট। খুব অল্প পরিশ্রমে আর সহজেই ঘরের ভেতরে এই গাছ বাঁচে। মাকড়সা যেমন ছায়ার প্রাণী, তেমনই এই গাছকেও ছায়ায় রাখতে হয়। মানে ঘরের ভিতরে রাখতে হবে। আর তাতেই এটি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে বাতাস পরিশুদ্ধ করবে, কমিয়ে দেবে ঘরের উষ্ণতা। পাশাপাশি বাতাসে উপস্থিত ক্ষতিকর দূষিত পদার্থ শোষণ করে নেয়।
রাবার গাছ
এই গাছের পাতাগুলো বড় বড় তাই ঘর ঠান্ডা রাখার সক্ষমতাও এদের বেশি। রাবার গাছ পরিবেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে। অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড দীর্ঘক্ষণ তাপ ধরে রাখে। আর ঘরে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে ঘর দ্রুত গরম হয়ে যায়। এছাড়া উপকারী এই গাছটি বাতাসে উপস্থিত ফরমালডিহাইডকে শোষণ করে পরিবেশকে বিশুদ্ধ রাখতেও সাহায্য করে। ঘরের অক্সিজেন এবং উষ্ণতার মাত্রা বজায় রাখতে রাবার গাছ দারুন কার্যকর। গাছটির খুব বেশি যত্ন দরকার হয় না, মাঝে মাঝেই একটু পানি ছিটিয়ে দিলেই গাছটি দিব্যি বেঁচে থাকে।
বস্টন ফার্ন
শুধু ঘরের তাপমাত্রা কমানোই নয়, এটি একই সাথে হিউমিডিফায়ার এবং পিউরিফায়ার হিসেবে কাজ করে গাছটি। বায়ুতে উপস্থিত নানা রকম উদ্বায়ী জৈব যৌগসমূহকে দূর করে। তবে ফার্ন যেহেতু শীতল পরিবেশের গাছ, তাই এটি রাখতে হবে ছায়ায়, ঘন ঘন পানিও দিতে হবে।
চাইনিজ এভারগ্রিন
চাইনিজ এভারগ্রিন খুব সুন্দর একটি গাছ। এটি বাতাসের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে বাতাস পরিশুদ্ধ করার জন্য সুপরিচিত। এই গাছ অনেকগুলো একসাথে রাখলে নিজস্ব বায়ুমণ্ডলীয় বাস্তুতন্ত্র তৈরি করতে পারে। এর অনেকগুলো জাত রয়েছে। তবে ঘর ঠান্ডা রাখার জন্য ‘লাস ফলিয়েজ’ জাতের গাছগুলোর তুলনা হয় না।
এরিকা পাম
এরিকা পাম একটু বড় আকারের একটি ইনডোর প্ল্যান্ট। বাড়িতে জায়গার অভাব না থাকলে বসার ঘরে রাখতে পারেন এরিকা পাম। এটি তাল গাছের মতোই দেখতে। এরিকা পাম এক দিকে ঘর ঠান্ডা রাখে, আবার দেখতেও ভাল লাগে। শুধু বাড়ি নয়, এই গাছটি হোটেল, অফিস এবং অন্যান্য উন্মুক্ত স্থানে সাজাতেও ব্যবহৃত হয়।
বাম্বু পাম
আরেকটি অপেক্ষাকৃত বড় আকারের ইনডোর প্ল্যান্ট বাম্বু পাম। এর বড় বড় পাতা খুব সহজেই চারপাশের উষ্ণতা শোষণ করে নেয়। তাই গ্রীষ্মে ঘর শীতল রাখতে কাজে আসতে পারে বাম্বু পাম। এই গাছের লম্বা পাতা এয়ার হিউমিডিফায়ার এবং পিউরিফায়ার হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও পরিবেশ থেকে বেনজিন ও ট্রাইক্লোরো ইথাইলিন দূর করতে সাহায্য করে। শুধু দিনে বেশ কয়েকবার পানি দিতে ভুললে চলবে না।
ইনডোর প্ল্যান্ট/এসকেএম/কিউটি
আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD















Leave a Reply