নিউজ ডেস্ক: ইংল্যান্ডের বাজারে ৩ টার বেশি টমেটো কিনতে দিচ্ছে না। দামও অনেক। মন্দার কবলে বিশ্ব। সব জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। দুর্ভিক্ষও লাগতে পারে। ইউরোপে চিন্তা বেশি। ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষতিকর প্রভাব তাদের ওপর বেশি পড়েছে। বিশ্বজুড়েই দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে।
তবে আমার বিশ্বাস বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হবে না। খাদ্য সংকট হবে না। এই দেশ ঈশ্বরের বিশেষ দান। আমাদের কৃষকরা প্রাণশক্তি। বিলাসী পণ্যের দরকার নেই। দেশে উৎপাদিত ফল শাকসবজি খেয়েই আমরা সুস্থ থাকতে পারবো। আজ ৫ কেজি ভাল জাতের টমেটো কিনলাম ১০০ টাকা দিয়ে। উৎপাদক পর্যায়ে হয়তো ৫ টাকা কেজি। গাজর কিনলাম ২৫ টাকা কেজি। বাজার ভর্তী বড়ই বা আপেল কুলে। কেজি সর্বনিম্ন ৩০ টাকা। সফেদা মিলছে ৮০ টাকা কেজি। বাজারে স্ট্রবেরি মিলছে দেড়শ টাকা কেজি। পেয়ারা ৪০/৫০ টাকা। আর কি লাগে?
পাবদা মাছ ৩’শ টাকা কেজি। রুই- কাতলও মিলছে একই দামে। আলু ২০ টাকা কেজি।
দাম বেশি বিদেশি ফলের। আঙ্গুর আপেলের। সেগুলো খাবো না। মাংসের দাম বেড়েছে। সেটাও ২ মাস খাওয়া বন্ধ রাখবো।
ঋতু পরিবর্তনে সাথে সাথে আমাদের ফসলেরও পরিবর্তন হয়। এখন কিছু শাকসবজির সিজন শেষ। ফুলকপি, বাঁধাকপি,সিম শেষের পথে। ফলে দাম বেড়ে যাচ্ছে। কদিন পরই আসবে ঢেঁড়স, কাকরুল,পটলসহ আরও নানা সব্জি। প্রথম কয়েকদিন দাম বাড়তি থাকলেও পরে কমে যায়।
আর মাসখানেক পরই আসবে আম, কাঁঠাল। বাজার ভরে যাবে মৌসুমি ফলে।
১২ মাসে ১৩ পার্বনের মতো বাজারেও মিলছে ১২ মাসে ১৩ ফল, শাকসবজি। এসব দেখে আমি মনে করি আমাদের খাদ্যের অভাব হবে না। পর্যাপ্ত ধান উৎপাদন হয়। এবার সরিষা প্রচুর ফলেছে, যা থেকে তেলও পাবে। সয়াবিন তেল খাইয়ে আমাদের হার্ট,কিডনিতে অসুখ ধরিয়েছে। সরিষার তেল থেকে বঞ্চিত করেছে।
আমি আবারও বলি বাংলাদেশে শিল্প বিপ্লব সম্ভব না, হবেও না। এখানে দেশপ্রমিক শিল্পপতি নেই। বেশিরভাগ ফাটকাবাজ। শিল্পের নামে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বিদেশে পাচার করে। বিলাসবহুল জীবন যাপন করে। দর্জি ব্যবসা কোনও শিল্প নয়। এরা বিদেশী ক্রেতাদের অর্ডারের মাল সরবরাহ করে। সস্তা শ্রমের কারণে কাপড় সেলাই করাতে এখানে আসে। রাষ্ট্র এদের অত্যধিক সুযোগ সুবিধা দেয়। দর্জি ব্যবসায়িরাও বিদেশে টাকা পাচার করে বিলাসী জীবন যাপন করে।
বলার মতো কোনও শিল্পই নেই। সুঁই থেকে নরুন সবই আমদানি করতে হয়।
এ দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি কৃষক আর প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা। যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের মানুষকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। অথচ দেশে এই দুই শ্রেণি সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। মাত্র ৫ হাজার টাকা কৃষিঋণের জন্য কৃষকের কোমরে দড়ি বেঁধে জেলে নেয়া হয়। বিমানবন্দরে রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে নিগৃহীত হতে হয়। খারাপ ব্যবহার করা হয়।
অথচ, ব্যাংকের শতকোটি টাকার ঋণখেলাপিরা মসনদে বসে থাকে। তার টিকিটিও স্পর্শ করা যায় না। বিদেশে টাকা পাচারকারিকে কিচ্ছু বলা সম্ভব হয় না।
আমি আবারও বলছি এ দেশে কৃষি বিপ্লব হউক। এই উর্বর পলিমাটি ঈশ্বরের অপূর্ব দান। মাটিতে বিজ পড়লেই ফসল।
এর সবশেষ নজিরতো দেখিয়ে দিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের, সরকারের বিশাল দায়িত্ব পালন করেও তার বাসভবন গনভবনকে একটি কৃষিখামার বানিয়েছেন। ধান পেঁয়াজ, শাকসবজি থেকে শুরু করে হাঁস-মোরগ, গরু-ছাগল পালন করে কৃষকের এক অনন্য উপমা স্থাপন করেছেন শেখ হাসিনা। পেঁয়াজই পেয়েছেন ১শ কেজি। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, এখানে কৃষি বিপ্লবই সম্ভব।
তার এই চেষ্টা কৃষকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। এমন প্রধানমন্ত্রী যে দেশে থাকবে সে দেশে কৃষিবিপ্লব হবেই। খদ্যের অভাব হবে না। দুর্ভিক্ষ হবে না।
দরকার শুধু সুষ্ঠু পরিকল্পনা আর দেশপ্রেম। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে সম্মান দিলে দেশের অর্থনীতি বাঁচবে। জয় বাংলা।
লেখক পরিচিতি: শংকর মৈত্র; সাংবাদিক।
আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD















Leave a Reply