বিশেষ প্রতিবেদন: রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে দ্বিতীয় দফায় গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান শাহ্ মোহাম্মদ ইমদাদুল হক কর্তৃক গঠিত কমিটি তদন্ত কাজে চলতি সপ্তাহে চট্টগ্রাম যাবে বলে জানা গেছে।

BCIC Logo
বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড-এ বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগে প্রথম দফায় গঠিত কমিটির প্রতিবেদন বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
জানা গেছে, টিএসপি কমপ্লেক্সে চলছে তুঘলকি কারবার। টিএসপি কমপ্লেক্স নিয়ে উঠেছে বিভিন্ন অভিযোগ। সম্প্রতি ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সারে ভেজাল এবং লিক্যুইড সালফিউরিক এসিড বিক্রিতে অনিয়মের বিষয়টিই মূখ্য হয়ে দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সালফিউরিক এসিড সরবরাহের পর যে উদ্বৃত্ত থাকে তা নিয়েও রয়েছে অনৈতিক বাণিজ্য। সালফিউরিক এসিডের মত স্পর্শকাতর পণ্য যে সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বেশ ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে মুছা এন্ড কোং-এর স্বতাধিকারী গোলাম কিবরিয়া মাছুদ আর্ট নিউজকে জানান, যে সব প্রতিষ্ঠানের কাছে এসিড বিক্রি করা হচ্ছে তাদের অনেকের ট্রেড লাইসেন্স নেই। অনেকের পরিবহন লাইসেন্সও নেই। টিএসপি কমপ্লেক্সের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে ক্রয়ে অযোগ্য প্রতিষ্ঠানও নিয়মিত এসিড পাচ্ছে। এমন অনিয়মে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট।
গোলাম কিবরিয়া মাছুদের তথ্য মতে, টিএসপি কমপ্লেক্সের মার্কেটিং বিভাগের কর্মকর্তা মোমিন সরকার, আউয়াল, কেশব ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিয়ন রফিককে ঘিরে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। এদের সাথে যোগসাজশে বহিরাগত কাউছার, সুজন ও তার ভাই এবং আসলাম সখ্যতা গড়ে তোলে। এর মাধ্যমে সালফিউরিক এসিডের মত স্পর্শকাতর পণ্য এমন সব প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করে যাদের আইনগতভাবে এই পণ্য পাওয়ার সুযোগ নেই।
টিএসপি কর্মকর্তা আউয়াল ও গোলাম কিবরিয়া মাছুদের ফোনালাপের রেকর্ড থেকে জানা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠান টাকার বিনিময়ে বিসিআইসি-তে করা আবেদনে স্বাক্ষর নিয়ে টিএসপি থেকে মাল উত্তোলনের করে।
মুছা এন্ড কোং-এর স্বত্তাধিকারী গোলাম কিবরিয়া মাছুদ আর্ট নিউজকে জানান, একজন ব্যক্তি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে মাল উত্তোলন করতে পারেন। কিন্তু মাত্র ৫ জন ব্যক্তি অন্তত ২৮টি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সালফিউরিক এসিড উত্তোলন করে থাকেন। এরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক কিংবা কর্মকর্তাও নন। এসব অনেক প্রতিষ্ঠানের কারও ট্রেড লাইসেন্স নেই। আবার অনেকের নেই ফায়ার লাইসেন্স। কোন কোন প্রতিষ্ঠানের পরিবহন লাইসেন্স না থাকলেও নিয়মিত মাল (এসিড) পরিবহন করছে।
গোলাম কিবরিয়া মাছুদ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অনিয়মের মাধ্যমে যারা এসিড উত্তোলন করছেন তাদের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলাম সংশ্লিষ্ট মানুষ আছেন। তারা এসব এসিড যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে থাকে তবে এর দায় কে নিবে।
টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বিষয়ে জানান, তার প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, অনিয়মের তথ্য পেলে তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন।
প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক জনাব মোমিন বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিক্যুইড সালফিউরিক এসিড সরবরাহের ক্ষেত্রে নিয়মের কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। প্রচলিত নিয়মের মধ্যেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এসিড সরবরাহ করা হয়। গত মে মাসে তিনি আর্ট নিউজকে জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মেটানোর পর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এসিড সরবরাহ করা হয়।
আরও পড়ুন: সাশ্রয়ী মূল্যে এক কোটি পরিবারকে নিত্যপণ্য দেয়া হচ্ছে
উল্লেখ্য, শুধু লিক্যুইড সালফিউরিক এসিড নিয়েই সঙ্কট নয়। সম্প্রতি সঙ্কট তৈরি হয়েছে টিএসপি সার নিয়েও। চলতি বছরের ২৮ ও ২৯ আগস্ট টিএসপি কমপ্লেক্স উৎপাদিত সারে ভেজাল পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম থেকে বগুড়া সরকারি বাফার গুদামে পাঠানো ১৮ ট্রাক (২৫২ টন) টিএসপি সার নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় গুদাম কর্তৃপক্ষ সার গ্রহণ করেনি। পরীক্ষার পর ৭টি ট্রাকের সারে ভেজার চিহ্নিত হয় (১ সেপ্টেম্বর)।
এর আগে, চলতি বছরেরই ১৭ মার্চ যশোর বাফার গুদামেও ঘটে একই কাণ্ড। সেখানে নেয়া ১০ ট্রাক সারের মধ্যে ৯টিতে ‘সম্পূর্ণ ভেজাল’ ও একটি নমুনা ‘ভালো নয়’ বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।
টিএসপিিআরএম/রমু
আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD














Leave a Reply