ভারতবর্ষে কমিউনিস্ট আন্দোলনের ১০০ বছর

নিউজ ডেস্ক: ১৯২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারতের কানপুর সম্মেলনে গঠিত হয়েছিল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই)। প্রথম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন কমরেড এসভি ঘাটে।

গত ১০০ বছর ধরে এই ভূখণ্ডে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম, তেলেঙ্গনা-টংক-তেভাগা-নানকারসহ অসংখ্য কৃষক আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন, ভূমি সংস্কার আন্দোলন, ছাত্র-যুব-নারী আন্দোলন, কর্মসংস্থানের আন্দোলন, শোষণমুক্তির আন্দোলন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে কমিউনিস্ট পার্টি এবং তার গণসংগঠনগুলো চ্যাম্পিয়ন এর ভূমিকা পালন করেছে।

১৯৪৮ সালের ৬ মার্চ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসে পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয় এবং একই দিনে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির প্রাদেশিক পরিষদ গঠিত হয়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) তারই ধারাবাহিকতার ফসল।

পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ৫৪ যুক্ত ফ্রন্ট নির্বাচন, ৫৮ সালের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে কমিউনিস্ট পার্টি অনন্য ভূমিকা পালন করেছে।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টি নেতৃত্ব দিয়েছে। ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে মাতৃভূমির স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন, শহীদের মৃত্যুবরণ করেছেন।

স্বাধীন বাংলাদেশের গত ৫৩ বছরে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-নারী ও পেশাজীবীদের আন্দোলনে কমিউনিস্ট পার্টি নেতৃত্বের ভূমিকায় অংশ নিয়েছে। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি নির্মূল, জঙ্গিবাদ ও কর্তৃত্ববাদ বিরোধী আন্দোলনে কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীরা বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে। মানুষের ওপর মানুষের শোষণ মুক্তির সংগ্রামে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।

গত ১০০ বছর ধরে ভারতবর্ষে সাম্য-মৈত্রী-স্বাধীনতা এই মূল মন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কমিউনিস্ট পার্টি অনন্য ভূমিকা রেখেছে এবং রেখে চলেছে। শত-সহস্র কমরেড নিঃসঙ্কচিত্তে আত্মত্যাগ করেছে, জীবন উৎসর্গ করেছে।

কমরেড মানে কাছের মানুষ, সহযোদ্ধা, আদর্শিক বন্ধু এ মর্মবাণী প্রতিষ্ঠায় সফলকাম হয়েছে। শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলবে।

বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক, জয় হোক মেহনতি মানুষের। কমিউনিস্ট পার্টি জিন্দাবাদ।

লেখক পরিচিতি: বিকাশ সাহা, রাজনৈতিক কর্মী

সিপিবি/এএমএম

আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com

আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD

https://www.youtube.com/channel/UCC2oLwZJYHIEygcbPX3OsWQ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *