কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় আইন বাতিলের দাবি আইনহীনতারই নামান্তর

০৪ মার্চ ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): কারাগারে কোনও মৃত্যুর ঘটনায় আইন বাতিলের দাবিকে আইনহীনতারই নামান্তর হিসেবে বর্ণনা করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডক্টর হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকবৃন্দ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় ‘নাগরিক সমাজ’ উত্থাপিত আইনটি বাতিলের দাবি’র বিষয়ে প্রশ্ন করেন। প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও আইনে যদি কেউ গ্রেপ্তার হয় এবং তিনি যদি কারাগারে স্বাভাবিকভাবে বা কোনও কারণে মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে যদি সেই আইন বাতিল করতে হয়, তাহলে তো বাংলাদেশে সব আইনই বাতিল করার কথা আসে। অন্যান্য আইনেও মানুষ গ্রেপ্তার হয় এবং কারাগারে নানা কারণে মৃত্যু হয়। তাহলে সেই সমস্ত আইনও কি বাতিল করে দিতে হবে? প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রী।

‘নাগরিক সমাজ’ প্রসঙ্গে ডক্টর হাছান বলেন, তারা কয়েকজন নাগরিক এটা বলেছেন। বাংলাদেশে আরও বহু নাগরিক আছেন। নাগরিক বলতে শুধু কয়েকজন যারা সবসময় প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বক্তৃতা করেন তাদেরকে বুঝায় না। বাংলাদেশে সুশীল সমাজের আরও লাখ লাখ নাগরিক আছে। আর ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সমস্ত মানুষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্য।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যখন এই ডিজিটাল বিষয়টা ছিল না, তখন আইনের প্রয়োজন ছিল না। এখন যখন ডিজিটাল বিষয়টা আসছে, ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টাও আসছে। এ ধরণের আইন বিভিন্ন দেশে আছে, সেখানেও গ্রেপ্তার ও শাস্তি হচ্ছে। তবে এই আইনের যাতে অপপ্রয়োগ না হয় সেদিকে আমরা সতর্ক আছি এবং থাকবো।

জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের প্রস্তাব সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডক্টর হাছান বলেন, প্রথমত: জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার ছিলেন বটে কিন্তু তার ভূমিকাটা রহস্যজনক ছিল। কোনও মুক্তিযোদ্ধাকে কারও বাড়িতে পানি খাওয়ানো হলেও সে কারণে সেই বাড়ির ওপর নির্যাতন হয়েছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টরের কমান্ডার জিয়াউর রহমানের স্ত্রী আর পুত্ররা একেবারে পরম অতিথির আদরে পাকিস্তানিদের ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নেন এটা রহস্যজনক।

মন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয়ত: মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা জিয়াকে চিঠি লিখেছিল যে, তার কর্মকান্ডে পাকিস্তানিরা খুশি। সেই চিঠির কপি রয়েছে। তৃতীয়ত: ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের সাথে জিয়াউর রহমান ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারিদের তিনি পুণর্বাসিত করেছিলেন। যে যুদ্ধাপরাধীরা বাংলাদেশ চায়নি, বাংলাদেশের পতাকার বিরুদ্ধে পাকিস্তানিদের পক্ষ হয়ে গণহত্যা করেছে। তাদেরকে তিনি মন্ত্রী বানিয়েছেন। যে শাহ আজিজুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানিদের ডেপুটি লিডার হিসেবে জাতিসংঘে গিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে ওকালতি করেছেন এবং বলেছিলেন পুর্ব পাকিস্তানে কোনও যুদ্ধ হচ্ছে না। কিছু ভারতীয় চর সেখানে গন্ডগোল করছে মাত্র। তাকে কেন প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন? সেটি বিরাট প্রশ্ন। এভাবে মুক্তিযুদ্ধকাল থেকে পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের কর্মকান্ডে স্বাক্ষ্য দেয় যে, তিনি আসলে মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মাবরণে পাকিস্তানিদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। সেই কারণে তার খেতাব বাতিলের প্রসঙ্গ এসেছে। তবে খেতাব বাতিলের কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি জানান ডক্টর হাছান।

বেগম খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ডক্টর হাছান বিষয়টির আইনগত দিকগুলো নিয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে বলে জানান। এর আগে তথ্যমন্ত্রী ডক্টর হাছান মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগ আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন এডভান্সমেন্ট অভ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং’ এর উদ্বোধনকালে তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের সক্ষমতা ও সৃষ্টিশীলতার প্রশংসা করেন। বলেন, বৈশ্বিক যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য এ ধরণের সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। উদ্বোধনী সভায় চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ রফিকুল আলম, পুরকৌশল বিভাগের প্রধান ডক্টর সুদীপ কুমার পালসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। খবর: বাসস।

তথ্যমন্ত্রী/এসকেএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *