গণতন্ত্র নিহত

৩০ মার্চ ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্র ক্ষমতা হস্তান্তরের পর সংবিধান সংশোধন করে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নামে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও সংসদ বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে জাতীয় পার্টির বছরব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন পর্বে দলীয় প্রধান জিএম কাদের এমন দাবিই করেছেন।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের পর থেকে দেশে আর গণতন্ত্র নেই। এমন বাস্তবতায় কখনোই উচ্চমানের গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব নয়। সংবিধানের ৭০, ৯৫, ১০৯ ও ১১৬ ধারা সংযোজন করে দেশের সব ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে অর্পণ করা হয়েছে। সংবিধানকে এমন ভাবে সংশোধন করা হয়েছে যাতে দেশের নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা এবং রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রায় ৯৯ ভাগই সরকার প্রধানের হাতে। এতে দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। আমরা সংবিধানের ৭০, ৯৫, ১০৯ ও ১১৬ ধারার বিলুপ্তি চাই।

জিএম কাদের বলেন, দেশে গণতন্ত্রের অভাবে সুশাসন ও আইনের শাসন নষ্ট হয়েছে। দলীয় করণের মাধ্যমে দেশের হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ’৯১ সালের পর থেকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা দলীয়করণের মাধ্যমে টেন্ডারবাজী, লুটপাট ও দখলবাজীতে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, দেশের মানুষ বঞ্চিত, নিষ্পেশিত ও অত্যাচারিত হচ্ছে। গণতন্ত্র নষ্ট করার মাধ্যমে দেশের সুশাসন ও আইনের শাসন নষ্ট করা হয়েছে। দেশে দুর্নীতি ও নিরাপত্তহীনতা বেড়েছে। এভাবে চলতে দেয়া যায় না। দেশের মানুষ মুক্তি চায়। আমরা দেশের মানুষকে গণতন্ত্রের প্রকৃত স্বাদ উপহার দিব।

বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে হবে। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র হাত থেকে মুক্তি চায়। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। আওয়ামী লীগের পরিবর্তে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলেও দেশের মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হবে না। দেশের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বিদ্যমান সংবিধানে গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব নয়। তাই শাসন ব্যবস্থা সংশোধন জরুরি হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্যই ইচ্ছেমত সংবিধান সংশোধন করেছে। এতে দেশের মানুষ বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। অধিকারহারা হয়েছে সাধারণ মানুষ। দেশ থেকে দলীয়করণ, টেন্ডারবাজী ও চাঁদাবাজী চিরতরে বিদায় করতে হবে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের অভাবে মুনাফালোভী ও দুর্নীতিবাজরা নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করে তুলেছে। জিনিস পত্রের দাম বেড়েই চলেছে। রমজানের আগেই ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

তিনি বলেন, আমাদের বন্দুকের নল নেই। পেশি শক্তি নেই। দেশের মানুষের আস্থা আর ভালোবাসা নিয়েই আমরা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়বো।

অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমোদ বাবলু বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, সেই স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। দেশের মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা নেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কাউকে গ্রেফতার করলে, জেল থেকে তার লাশ বের হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক কার্টুনিস্ট কিশোরকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, ধর্ষণরোধে তাদের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের প্রস্তাব অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন করা হয়েছে। কিন্তু আইনের শাসনের অভাবে দেশ থেকে ধর্ষণ বন্ধ হচ্ছে না। দেশ থেকে দুর্নীতি, দুঃশাসন, একনায়কতন্ত্র, চাঁদাবাজী ও টেন্ডারবাজী বন্ধ করতে সব রাজনৈতিক শক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে।

বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, উপদেষ্টা- জহিরুল আলম রুবেল, ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, এইচএম শাহরিয়ার আসিফ, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ বেলাল হোসেন ও জাতীয় ছাত্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সোহেল মোহাম্মদ রানা, নুরুল ইসলাম শানু, আমানত হোসেন, হেনা খান পন্নী, খান ইসরাফিল খোকন, নুরুল ইসলাম তালুকদার, অ্যাডভোকেট লাকি বেগম, হারুন আর রশীদসহ অন্যান্য নেতারা।

অনুষ্ঠানে জাতীয় জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহ্বায়ক শেরিফা কাদেরের নির্দেশনায় আলাউদ্দিন আহমেদের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন সংগঠনের সদস্যরা।

জাপা/এসকেএম/আরএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *