ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের ১৯০ বছর পূর্তি

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের ১৯০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৮৩৫ সালের ১৫ জুলাই স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত বাংলার প্রথম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল। প্রথমে এর নাম ছিল ‘ঢাকা ইংলিশ সেমিনারী’। ভারত স্বাধীনতা আন্দোলন ও ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে এই স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারিরা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল স্বমহিমায় ভাস্বর। ১৯০ বছরে দেশ ও বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বদের বিদ্যাপীঠ হিসেবে স্কুলটির পরিচিতি রয়েছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও।

ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় আরও দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর একটি ঢাকা কলেজ ও অপরটি গভর্ণমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল। কলেজিয়েট স্কুলের কলেজ শাখা হিসেবে ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা কলেজ। অন্যদিকে, ১৯৬১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত ল্যাবরেটরি স্কুলের যাত্রা শুরু হয় কলেজিয়েট স্কুলের যেসব শিক্ষার্থীর বাসা গুলিস্তান রেললাইনের উত্তর পাশে তাদের নিয়ে। স্কুলটি পরে টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হয়।

এছাড়াও রাজধানীর আরও দুটি প্রাচীণ বিদ্যালয় ‘পোগোজ স্কুল’ (১৮৪৮) ও ‘কেএল জুবিলী হাই স্কুল’ (১৮৬৬) প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের দুই প্রাক্তণ শিক্ষার্থী। আর্মেনিয়ান ব্যবসায়ী ও জমিদার নিকোলাই পোগোজ বা নিকি পোগোজ নিজ বাসার নিচে প্রথমে প্রতিষ্ঠা করেন দেশের প্রথম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পোগোজ অ্যাংলো-ভারনাকুলার স্কুল, পরে নাম পরিবর্তন করে রাখেন পোগোজ স্কুল। অন্যদিকে, জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী নিজ নামে প্রতিষ্ঠা করেন কেএল জুবিলী স্কুল। পরে বাবার নামে প্রতিষ্ঠা করেন জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৮৩৫ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। ১৮৩৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে ঢাকা জেলার কালেক্টর (বর্মান জেলা প্রশাসক পদ) মিস্টার স্কিনার স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা সার্জন (বর্তমান সিভিল সার্জন পদ) ডাক্তার জেমস টেইলর সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মিস্টার রিজ নামক একজন দক্ষ ইংরেজি শিক্ষককে প্রথম প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। পরে, ১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও পাটনা কলেজিয়েট স্কুল৤

১৮৪১ সালে ঢাকা কলেজ নামে এর কলেজ শাখা চালু হলে ঢাকা ইংলিশ সেমিনারী নামটি পরিবর্তন করে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল নামকরণ করা হয়। ১৯০৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত স্কুলটি কলেজ অধ্যক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ১৯০৮ সালের জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যালয় পরিদর্শকের তত্ত্বাবধানে নেয়া হয়। সেসময় থেকেই বিদ্যালয়টি জেলা স্কুলের মর্যাদা পেয়ে আসছে।

১৮৭২ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয়রা স্কুলটি পরিচালনা করেন। ভারতীয়দের মধ্যে প্রথম প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাবু কৈলাস চন্দ্র ঘোষ। পরে বাবু রত্ন মণি গুপ্ত (১৮৮৮-১৮৯৬) প্রধান শিক্ষক থাকাকালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে টানা ৮ বছর প্রথম স্থান অধিকার করে।

ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসংখ্য ব্যক্তি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি পেয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ হচ্ছেন: বিজ্ঞানী স্যার আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু, পদার্থবিজ্ঞানে থার্মাল আয়নাইজেসন তত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা মেঘনাদ সাহা, ব্রাহ্ম স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা (এই স্কুলটি পরে কেএল জুবিলী স্কুলে পরিণত হয়) ব্রজসুন্দর মিত্র (ঢাকা শহর থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা ঢাকা প্রকাশ তার ছাপাখানায় মুদ্রিত হতো), অগ্নিযুগের বিপ্লবী দীনেশ গুপ্ত, ভাষাবিদ ও শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা রামপ্রসাদ চন্দ, জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম চলচ্চিত্রকার হীরালাল সেন, কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও বুদ্ধদেব বসু, ভারতী ঢাকার জমিদার খাজা আব্দুল গণি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য রমেশচন্দ্র মজুমদার, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আব্দুল হালিম, বিচারপতি মোস্তফা কামাল, রাজনীতিবিদ শাহ মোয়াজ্জেম, চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমান, আলমগীর কবির ও শিবলী সাদিক, অভিনেতা বুলবুল আহমেদ ও সাঈদ আহমদ, চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মুস্তফা মনোয়ার, পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত, অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দীন আহমেদ, গবেষক হাশেম সূফি, ক্রীড়া সাংবাদিক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, সাংবাদিক-লেখক-গবেষক রহমান মুস্তাফিজ, নোভা ব্যান্ডের ভোকাল এএফএম করিম (ফজল)।

কলেজিয়েট স্কুল/এএমএম/কিউটি

আরও খবর পড়তে:  NRB365.com

আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ART News BD Plus

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *