১৮ নভেম্বর ২০২০ (নিউজ ডেস্ক): করোনা মহামারীর মধ্যে বেসরকারি স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শুধু টিউশন ফি নিতে পারবে। এর বাইরে অন্য কোন ফি নেয়া যাবে না। এ সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) আওতাধীন বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (এমপিওভুক্ত ও এমপিওবিহীন) জন্য প্রযোজ্য হবে।

বুধবার মাউশি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টিফিন, পুণঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন, স্কুলের উন্নয়ন ও অ্যাসাইনমেন্ট বাবদ কোন ধরনের ফি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া যাবে না। কোন প্রতিষ্ঠান এসব খাতে ফি নিয়ে থাকলে তা ফেরত দিবে অথবা টিউশন ফি’র সাথে সমন্বয় করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে করোনা মহামারীর কারণে যেসব অভিভাবকের আয় কমে গেছে বা যারা চাকরি হারিয়েছেন তাদের সন্তানদের টিউশন ফি আদায়ের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিভাবকের আর্থিক সঙ্কটের কারণে কোন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যেন ব্যাহত না হয় সে বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যত্নশীল হতে হবে।
মাউশি’র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২১ সালের শুরুতেও যদি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় তবে টিফিন, পুণঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন, স্কুলের উন্নয়ন ও অ্যাসাইনমেন্ট বাবদ কোন ধরনের ফি নেয়া যাবে না। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগের মত ফি নেয়া যাবে।
উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর কারণে ১৮ মার্চ থেকে সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। জুন মাসে শুরু হয় অনলাইন ক্লাস। অনলাইন ক্লাস শুরুর পর কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টিউশন ফিসহ অন্যান্য ফি-এর জন্য অভিভাবকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফি বাকি পরা শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে অ্যাক্সেস বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন অভিভাবক আদালতে যান। উচ্চ আদালত থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, টিউশন ফি’র কারণে কোন শিক্ষার্থীকে অনলাইন ক্লাসের বাইরে রাখা বা তাদের পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না।
এ বিষয়ে গত ৯ আগস্ট ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা শিক্ষামন্ত্রী ডাক্তার দীপুমনির সাথে অনলাইনে সভা করেন। সে সময় শিক্ষামন্ত্রী অভিভাবকদের আশ্বস্ত করেন শিক্ষার্থীরা যেন কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন সে বিষয়ে তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নিবেন।
অভিভাবকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, করোনার কারণে অনেকে বেকার হয়েছেন। অনেকের আয় কমে গেছে। এমনকি অনেক ব্যবসা পট্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অযৌক্তিক দাবির কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পরেছে। প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে বিদ্যুৎ বিলসহ অনেক খরচ কমে গেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো এসব টাকাও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করছে। শিক্ষা সফর, উন্নয়ন ও পুনঃভর্তির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে অভিভাবকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। অভিভাবকদের দাবি, অনলাইন ক্লাসে টিউশন ফি যেন কমানো হয়।
শিক্ষা/এসকেএম/আরএম
















Leave a Reply