২৫ জানুয়ারি ২০২১ (স্পোর্টস ডেস্ক): দশ মাস পর মাঠে নেমেই প্রতিপক্ষকে বাংলাওয়াশের স্বাদ দিল টাইগাররা। জয় করে নিল সিরিজের পুরো ৩০ পয়েন্ট। সুপার লীগের এই জয় বাংলাদেশকে আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নেয়ার লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে রাখলো।
এক যুগ পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আবারো হোয়াইটওয়াশ করলো বাংলাদেশ। এর আগে, ২০০৯ সালে প্রথমবার ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। এছাড়া, এবার নিয়ে মোট পাঁচবার ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সিরিজ জয় করলো টিম বাংলাদেশ।

সোমবার সিরিজের শেষ ও তৃতীয় ম্যাচে শেষ ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের ১২০ রানের বড়ো ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ৩৪ বল অধরা রেখে ১৭৭ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
চট্টগ্রামে সিরিজের শেষ ম্যাচে টস জিতে জেসন মোহাম্মদ ব্যাটিংয়ের চ্যালেঞ্জ জানান বাংলাদেশকে। বিনিময়ে টাইগাররা ক্যারিবীয়দের সামনে ছুড়ে দেয় ২৯৮ রানের বড়ো টার্গেট। পাহাড়সম টার্গেট ছুতে ব্যর্থ হন অতিথিরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে যেন মজা পাচ্ছেন মুস্তাফিজ। অধিনায়ককে প্রথম ব্রেক থ্রু-টা এ ম্যাচেও এনে দিলেন মিস্টার ফিজ, দ্য কাটার মাস্টার। আগুনঝড়া বলে তিনি প্যাভিলিয়নে পাঠান দুই ওপেনারকে। ওটলি (৮ বলে ১ রান) ও সুনীল অ্যামব্রিস (১৪ বলে ১৩ রান) শিকার হন মুস্তাফিজের।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোন ব্যাটসম্যানই প্রতিরোধ গড়তে পারেননি বাংলাদেশি বোলিং আক্রমণের। দলের সর্বোচ্চ রান আসে পাওয়েলের উইলো থেকে। সৌম্য সরকারের শিকার হয়ে ফেরেন সাজঘরে। তার আগে ৪৯ বলে ঝুলিতে পোড়েন ৪৭ রান।
সাইফউদ্দীন সংগ্রহ করেন ৩ উইকেট। মুস্তাফিজ আর মেহেদী হাসান মিরাজ ৪ উইকেট ভাগ করে নেন সমানভাবে। তাসকিন আর সৌম্য… দু’জনই একটি করে উইকেট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন।
এর আগে, আবারও বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা প্রমাণ করেছেন তাদের সামর্থ্য। চার সিনিয়র প্লেয়ারই হাঁকিয়েছেন অর্ধশতক। অতিথি বোলারদের প্রাথমিক প্রতিরোধ দেয়াল দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছেন তামিম, সাকিব, মুশফিক আর রিয়াদ।
ইনিংসের প্রথম ওভারে নিজের চতুর্থ বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন লিটন দাস। কোন রান না নিয়েই আলজারি জোসেফকে উইকেট উপহার দেন ওপেনার লিটন।
ওয়ান ডাউনে নেমে ৩০ রানে ২০ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কাইল মায়েসের বলে তিনিও আউট হন এলবিডব্লিউ হয়ে। তার আগে বল বাউন্ডারি ছাড়া করেন দুই বার।
চার নাম্বারে নেমে অধিনায়ককে যোগ্য সঙ্গ দেন সাকিব। অপর প্রান্তে সিঙ্গেল-ডবলসে ভর করে রানের চাকা সচল রাখেন তামিম। তবে নিজের ইনিংসকে ম্যাজিক ফিগারে পরিণত করতে পারেননি কাপ্তান টাইগার। তিন চার ও এক ছক্কায় ৬৪ রান করেন দেশ সেরা ওপেনার। যোসেফের বলে আকেয়াল হোসেনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ৮০তম বলে।তার প্রথম ৫০ রান আসে ৭০ বল থেকে।
তামিমের বিদায়ে মাঠে নামেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহীম। ইতোমধ্যে সাকিবও তুলে নিয়েছেন নিজের অর্ধশতক। ৭৮ বলে তিনি হাফ সেঞ্চুরির দেখা পান। ৫১ রানের পর সাকিব ক্রিজ ছাড়েন ৮১ বল মোকাবেলা করে। রেমন রেফারের বলে ক্লিন বোল্ড হন তিনি।
মুশি ৫৫ বলে ৬৪ রান করেছেন। এতে ছিল ৪ বাউন্ডারি ও দুইটি ওভার বাউন্ডারি। যোসেফের বলে রেফারের হাতে ক্যাচ তুলে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন।
সাবেক কাপ্তান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সংগ্রহ হার না মানা ৬৪ রান। বল মোকাবেলা করেছেন ৪৩টি। এতে ৪ ও ছয়ের মার ছিল তিনটি করে।
সাতে নামা সৌম্য সরকার ৮ বলে ৭ রানে রান আউটের শিকার হন। এছাড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন ২ বলে ৫ রান করে অপরাজিত থাকেন।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে সংগ্রহ করেছে ২৯৭ রান। এর মধ্যে শেষ ১০ ওভারে করেছে ১০০ রান। শেষ ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে করেছে ৫৭ রান।
ক্যারিবিয়ানদের মধ্যে সফল বোলার ছিলেন আলজারি যোসেফ। তিনি ১০ এভারে ৪৮ রান খরচায় নিয়েছেন দুই উইকেট। সমান সংখ্যক উইকেট নেন রেমন রেফার। তিনি দুই উইকেট নেন ৬১ রানের বিনিময়ে। আরেকটি উইকেট শিকার করেন কাইল মেয়ারস। তিনি ৭ ওভার বল করে ৩৪ রানে নেন একটি উইকেট।
বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের জন্য পয়মন্ত ছিলেন কিয়ন হার্ডিং। ১০ ওভারে বিনা উইকেট দেন ৮৮ রান।
স্বাগতিক বাংলাদেশ প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ইতোমধ্যেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে। আজকের ম্যাচ জিতে সিরিজ থেকে পুরো ৩০ পয়েন্ট নিতে আগ্রহী টাইগাররা।
হোয়াইটওয়াশ/রমু/টিটি
















Leave a Reply