০২ নভেম্বর ২০২০ (নিউজ ডেস্ক): জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি বলেছেন, দেশের খুন ও ধর্ষণের ঘটনা আন্তর্জাতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনের শাসন ও সুশাসনের অভাবে দেশে খুন, ধর্ষণ এবং অনাচার-অবিচার বেড়ে গেছে। আইনের ফাঁক দিয়ে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, আর সেকারণেই অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায়। আইনের শাসনে কিছুটা ঘাটতি আছে বলেই মানুষ নিজ হাতে আইন তুলে নিচ্ছে, যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সোমবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির নতুন কমিটির পরিচিতি অনুষ্ঠানে জিএম কাদের এ সব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহবায়ক শেরিফা কাদের।
সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেন, ধর্ষণের প্রতিবাদ জানাতে মানুষ রাস্তায় নেমেছে। এর চেয়ে লজ্জার কিছু নেই। তিনি দুঃখ ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, লালমনিরহাটে বুড়িমারি এলাকায় এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে, আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে আশ্রয় চেয়েও বাঁচতে পারেনি সে।
তিনি বলেন, যদি ছেলেটি অপরাধী হয় সেজন্য দেশে আইন আছে, তাকে আইনের মুখোমুখি করা যেতো। অপরাধ প্রমাণ হলে প্রচলিত আইনেই তাকে শাস্তি দেয়া যেতো।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এই নির্মম ও নৃসংশ হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।
সভায় দলীয় প্রধান আরও বলেন, দেশে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার অভাব স্পষ্ট। রাজপথে দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু যেন নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে সুশাসনে ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। দেশ থেকে খুন, ধর্ষণ, অবিচার-অনাচারের অবাসান চাই।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বের সব বৈপ্লবিক পরিবর্তন ও সামাজিক বিবর্তনে সাংস্কৃতিক কর্মীরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, একটি দীর্ঘ বক্তৃতা মানুষকে যতটা উদ্বুদ্ধ করতে পারে, তার চেয়ে একটি গান বা একটি কবিতা স্বল্প সময়ের মধ্যেই মানুষকে বেশি উদ্বুদ্ধ করতে পারে এবং তা হয় অনেক বেশি স্থায়ী।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক আদর্শকে এগিয়ে নিতে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিকল্প হয় না। তাই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টিকে আরও শক্তিশালী করতে নির্দেশ দেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ফরাসী বিপ্লব, চাইনিজ বিপ্লব, রুশ বিপ্লব, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন এবং মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে সাংস্কৃতিক কর্মীরা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আদর্শ বাস্তবায়নে জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টিকে আরও শক্তিশালীভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ শুধু উন্নয়ন চায় না, মানুষ উন্নয়নের সাথে সুশাসন চায়। দেশের ইতিহাসে একমাত্র হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উন্নয়নের সাথে সুশাসন দিতে পেরেছেন। তাই দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ভোট বিপ্লবে বিজয়ী হবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান আডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সাল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, আডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, নাজমা আকতার এমপি, আলমগীর শিকদার লোটন, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর এমপি ও নতুন কমিটির সদস্য সচিব আলাউদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।
জাপা/এএমএম/কিউটি














