কক্সবাজারের চিকিৎসক ও নার্সরা ঝুঁকিতে

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত এক জন নারী শনাক্ত হয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরেই তিনি অস্তুস্থ ছিলেন। ৬৫ বছর বয়েসী ওই নারী ৫ দিন ধরে আইসোলেশনে আছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের সংবাদ কর্মী ইসমত আরা ইসু প্রথমে ফেসবুকে তথ্যটি দেন। তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত হয়ে তার অফিসে জানানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও জানান।

পরে, দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আক্রান্ত রোগী কয়েকদিন ধরেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এক পর্যায়ে তার মধ্যে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে নমুনা পাঠানো হয় আইইডিসিআর-এ। মঙ্গলবার দুপুরে আইইডিসিআর থেকে জানানো হয় ওই রোগী করোনা ভাইরাস পজেটিভ।

জানা গেছে, ওই রোগীর বাড়ি কক্সবাজরের খুটাখালীতে। তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন।

এদিকে, কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাক্তার মাহবুবুর রহমান জানান, এর আগে সন্দেহভাজন দুই জনের স্যাম্পল পাঠানো হয়েছিল। তবে তার রিপোর্ট এসেছিল নেগেটিভ। কিন্তু গত ২২ মার্চ ওই নারীর স্যাম্পল পরীক্ষা করে পজেটিভ রিপোর্ট পাঠিয়েছে আইইডিসিআর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী ঠাণ্ডাজনিত অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির সময় বিদেশ থেকে ফেরার তথ্য গোপন করেছিলেন। বিদেশ থেকে ফেরার তথ্য না থাকায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা স্বাভাবিক রোগীর মতই চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন।

নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস পজেটিভ আসায় ওই নারীকে সেবা দেয়া চিকিৎসক ও নার্সরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ওই নারীর করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর বেশ কয়েকজন চিকিৎসক হোম কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন।

হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক বলছেন, ওই একজন নারীর কারণে পুরো কক্সবাজার ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ওই নারী তথ্য গোপন করার কারণে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা তার সাথে স্বাভাবিক আচরণ করেছেন। এমনকি তারা অন্য রোগীদেরও সেবা দিয়েছেন। এতে ওই নারীর সংস্পর্শে আসা চিকিৎসক ও নার্সরা বাহক হয়ে অন্য রোগীদের মাঝেও হয়তো করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও রোগীরা তাদের পরিবারের সাথেও মিশছেন। ফলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে সাগরকন্যা কক্সবাজারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *